kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

আহত ৫

চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণ নাশকতায়?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চট্টগ্রামে পুলিশ বক্সে বিস্ফোরণ নাশকতায়?

চট্টগ্রাম নগরীতে ট্রাফিক পুলিশের একটি বক্সে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশের দুই সদস্য ও শিশুসহ কমপক্ষে পাঁচজন আহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। এতে উদ্ধার করা হয়েছে কিছু বেয়ারিংয়ের অংশ, যা বোমায় ব্যবহৃত হতে পারে। এ কারণে এ ঘটনাটিকে নাশকতা বলে সন্দেহ করছেন পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

বিস্ফোরণের পর চট্টগ্রাম নগরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সব থানা ও ফাঁড়ি এবং মাঠে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে বলা হয়েছে।

নগরীর পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর দুই নম্বর গেট ট্রাফিক বক্সে গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ৯টার দিকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। তবে নাশকতা নাকি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে এই বিস্ফোরণ তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত করেনি পুলিশ।

বিস্ফোরণে আহতরা হলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট আরাফাত, পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আতাউদ্দিন, স্থানীয় দুই যুবক জাহিদ বিন জাহাঙ্গীর ও মোহাম্মদ সুমন এবং আনুমানিক ১০ বছর বয়সী এক শিশু।

আহত আতাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা পুলিশ বক্সের ভেতরে বসা ছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দ হয় এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়। আমরা ছিটকে পড়ি। এরপর আর কিছু জানি না। পরে আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।’

আহত মোহাম্মদ সুমন বলেন, ‘আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে পুলিশ বক্সের পাশে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। দেখি বক্সের ভেতরে আগুন। চেয়ার-টেবিলগুলো সামনে রাস্তায় পড়ে আছে। বক্সের ওপর থেকে টিন খুলে পড়েছে। আমি রাস্তায় ছিটকে পড়ি। বন্ধুরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।’

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার আমেনা বেগম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা মনে করেছিলাম যে এটি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে সৃষ্ট কোনো ঘটনা। ঘটনাস্থলে এসে দেখি এটি বড় ধরনের বিস্ফোরণ। বিস্ফোরকের আলামত পেয়েছি। ঢাকা থেকে বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিটের সদস্যরা আসছেন। তাঁরা সরেজমিনে দেখে বিস্তারিত বলতে পারবেন। তবে এটি পরিকল্পিত নাশকতা হতে পারে।’

ঘটনার পর আহতদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক আমির হোসেন জানান, বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে সবাই কমবেশি দগ্ধও হয়েছেন। দুই পুলিশ সদস্যকে বার্ন ইউনিটে প্রাথমিক চিকিৎসার পর চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়েছে। একজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরো দুজন ক্যাজুয়ালিটি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।

এদিকে বিস্ফোরণের খবর পেয়ে চট্টগ্রাম নগর পুলিশ, কাউন্টার টেররিজম ইউনিট, নগর গোয়েন্দা পুলিশ, পিবিআই, সিআইডির ক্রাইম সিন টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আসেন।

ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, কাচ ও স্টিলের ফ্রেম দিয়ে তৈরি ট্রাফিক বক্সের পুরোটাই দুমড়ে-মুচড়ে ১০ ফুট দূরে চলে গেছে। বক্সের সামনে পড়ে আছে ভাঙা কাচের টুকরো, চেয়ার-টেবিল, দরজা ও সাইনবোর্ডের ভাঙা অংশ।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা