kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

টাকা চুরি : নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা

বাঘারপাড়া (যশোর) প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২০:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



টাকা চুরি : নির্যাতন সইতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা

যশোরের বাঘারপাড়ায় টাকা চুরির ঘটনায় অপমান ও নির্যাতন সইতে না পেরে শিল্পী খাতুন (৩২) নামের এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার বলছেন, আত্মহত্যার আগে নির্যাতন করা হয়েছিল তাঁকে। এ ঘটনায় এক দম্পতির বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেছেন তার ভাই রিপন হোসেন।

নিহত শিল্পী খাতুন উপজেলার চেচুয়াখোলা গ্রামের দিনমজুর আব্দুল মালেকের স্ত্রী। 

শিল্পীর স্বামী আব্দুল মালেক জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকালে তিনি প্রতিদিনের মতো মাঠে কৃষি কাজ করছিলেন। সকাল ১০টার দিকে খবর আসে তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে। এ সময় দ্রুত বাড়িতে ছুটে গিয়ে তিনি দেখতে পান বাথরুমের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলে আছে তার স্ত্রী। দ্রুত হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে গৃহবধূ শিল্পী খাতুনের গলায় রশির দাগ দেখা গেলেও ঠোঁট ও মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নাক ও মুখ দিয়েও ঝরছিল রক্ত। যে কারণে স্থানীয় অনেকেই ধারনা করছেন আত্মহত্যার আগে তাকে শারিরীকভাবে নির্যাতন করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক। এমনকি ওই চিকিৎসক মিডিয়ায় তাঁর নাম প্রকাশ করতে নিষেধ করেন। এ ব্যাপারে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে ওই কর্মকর্তা অফিসিয়াল কাজে যশোর শহরে অবস্থান করছিলেন। এর আগে হাসপাতালে আনার আগেই শিল্পী খাতুনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন জরুরি বিভাগের ওই চিকিৎসক।

স্বজনরা জানান, শিল্পী খাতুন দেবর আব্বাস উদ্দিনের বাড়িতে নিয়মিত টেলিভিশন দেখতে যেতেন। ওই ঘর থেকে কোনো এক সময় ১৬ হাজার টাকা চুরি হয়। এতে আব্বাস দম্পতি দায়ী করে শিল্পী খাতুনকে। শিল্পী বরাবরই টাকা চুরির কথা অস্বীকার করে আসছিলেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে শিল্পীকে ধর্মগ্রন্থ স্পর্শ করানোসহ চালপড়া খাওয়ানো হয়। এসব বিষয় নিয়ে শারিরীক নির্যাতনের শিকার হন ওই গৃহবধূ। এক পর্যায়ে অপমান ও নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন শিল্পী খাতুন।

বাঘারপাড়া থানার এএসআই সঞ্জয় কুমার জানান, 'এ ঘটনায় আব্বাস উদিন ও তার স্ত্রী ঝর্না খাতুনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের ভাই রিপন হোসেন।'

এ ব্যাপারে বাঘারপাড়া থানার ওসি (তদন্ত) রিপন বালা জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি যশোর আড়াইশ শয্যা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা