kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

ডেমরায় ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী তরুণী

উপ-কমিশনারের হস্তক্ষেপে অবশেষে মামলা ও ধর্ষক গ্রেপ্তার

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি    

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উপ-কমিশনারের হস্তক্ষেপে অবশেষে মামলা ও ধর্ষক গ্রেপ্তার

রাজধানীর ডেমরায় ২১ বছরের শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী এক তরুণী একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ডেমরার পূর্ব বক্সনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে গতকাল বুধবার রাতে ডেমরা থানায় ভুক্তভোগীর মা অভিযুক্ত মতিন মিয়ার (৬০) বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলেও থানায় মামলা গ্রহণ না করে গরিমসি করে পুলিশ। পরে ডেমরা জোনের উপ-কমিশনারের কাছে বিষয়টি অবগত করলে টনক নড়ে পুলিশের। পরদিন রাতেই পুলিশ লম্পট মতিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। পরে আদালত তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এদিকে মেয়েটিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়েছে ডেমরা থানা পুলিশ।

অভিযুক্ত মতিন পূর্ব বক্সনগর রহিম মিয়ার বাড়ির কেয়ার টেকার। তিনি কুষ্টিয়ার সদর থানার হাউজিং স্টেট এলাকার মৃত ওয়ালি উল্লাহর ছেলে। 

ধর্ষণের স্বীকার ওই প্রতিবন্ধীর মা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ের সাথে জোর করে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তুলে লম্পট মতিন মিয়া। বিষয়টি আমি বুঝতে পেরে বুধবার রাতে ডেমরা থানায় পুলিশের কাছে বিষয়টি জানালে তারা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তালবাহানা শুরু করেন। পরে বাধ্য হয়ে উপ-কমিশানার স্যারের কাছে বিষয়টি অবগত করলে তিনি ডেমরা থানার ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেন। পরে থানা পুলিশ লম্পট মতিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হয়। 

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ধর্ষক মতিন মিয়ার লোকেরা আমাদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছি। আমি ন্যায়-বিচার পাওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে ডেমরা থানার ওসি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাবা প্রবাসে থাকায় প্রতিবন্ধী মেয়েটি পূর্ব-বক্সনগর এলাকায় মা ও ১০ বছরের ছোট ভাইসহ একটি বহুতল ভবনে ভাড়া থাকেন। ভুক্তভোগীর মা টিউশনি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। গত ২৮ জানুয়ারি সকালে মেয়েটির মা টিউশনি করতে বের হন। পরে মেয়েটি তার ছোট ভাইকে স্কুলে দিয়ে বাসায় আসার সময় সকাল ৯টার দিকে কেয়ার টেকার মতিন মিয়া মেয়েটিকে ভয়ভীতি দেখায়। এ সময় সে মেয়েটিকে নিচতলায় তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্যও ভয়ভীতি দেখায়। একই ঘটনা মতিন পরবর্তীতে একাধিকবার ঘটায়। আর এ বিষয়ে মেয়েটি তার মায়ের কাছে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বিস্তারিত জানায়। পরে আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করি। 

থানায় অভিযোগের পর মামলা না নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েই ধর্ষককে গ্রেপ্তার করে আদলতে প্রেরণ করেছি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডেমরা জোনের উপ-কমিশনার শাহ ইফতেখার আহম্মেদ কালের কণ্ঠকে বলেন, এই বিষয়ে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ডেমরা থানার ওসিকে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়ার পর ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মতিন মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা