kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাণিজ্যিক চাষ

সূর্যমুখীর হাসিতে রঙিন কৃষকের মুখ

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সূর্যমুখীর হাসিতে রঙিন কৃষকের মুখ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাঠে মাঠে এখন সূর্যমুখী ফুলের চাষ। জেলায় প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে সূর্যমুখী। মুজিববর্ষকে সামনে রেখে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করে সরকারি অর্থায়নে সূর্যমুখী চাষ করানো হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাষের তদারকি করছে।

জেলায় ৩৪ হেক্টর জমিতে হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চায় হয়েছে ৪০ হেক্টর জমিতে। এসব জমির ৮০ শতাংশেই ফুল ধরেছে। আবাহাওয়া অনুকূলে থাকলে শতভাগ জমিতেই ফুল ধরা ও বীজ পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এদিকে সূর্যমুখীর বাগানগুলো এখন প্রকৃতপ্রেমীদের উপভোগের বিষয় হয়ে উঠেছে। দলে দলে তাঁরা ছুটে চলছেন এসব বাগানে। ছবি তুলে পোস্ট করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। পড়ন্ত বিকেলে সূর্যমুখীর বাগানগুলো প্রকৃতিপ্রেমীদের ভিড় উপচে পড়ে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সূর্যমুখী চাষের ৯০ থেকে ১০৫ দিনের মধ্যেই কৃষকরা ফুল থেকে বীজ ঘরে তুলতে পারবেন। প্রতি বিঘা জমিতে ছয় থেকে সাড়ে ছয় মণ বীজ পাওয়া যাবে। বিঘা প্রতি কৃষকরা ১০-১১ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করা যাবে। সূর্যমুখীর বীজ থেকে যে সয়াবিন তেল পাওয়া যাবে তাতে কোনো ক্ষতিকর কোলেস্টোরল নেই।

কথা হয় সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের চান্দিয়ারা গ্রামের কৃষক মো. নূরু মিয়ার সঙ্গে। আগে তিনি আলু, ধনিয়া, টমেটো, ঢেড়শ ইত্যাদি চাষ করলেও এবার কৃষি অফিসারের পরামর্শে প্রথমবারের মতো সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন। তাঁর পাঁচ বিঘা জমির জন্য কৃষি অফিস থেকে তাকে বিনামূল্যে সূর্যমুখীর বীজ ও সার দেয়া হয়।

আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রামের কৃষক মো. তামজিদ খান জানান, তিনি মোগড়া ইউনিয়নের আদমপুর গ্রামে ১৫ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেছেন। সূর্যমুখী ফুল দেখতে প্রতিদিন শত শত লোক আসায় সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিজয়নগর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাদিউল ইসলাম সৃজন বলেন, ‘আমার আওতাধীন সিঙ্গারবিল এলাকার খিরাতলা ও মুরাদনগরে মোট পাঁচ বিঘা জমিতে সূর্যমুখীর চাষ হয়েছে। চাষের তদারকি করা হচ্ছে নিয়মিত। আশা করছি কৃষকরা ভালো ফলন পাবে।’ সূর্যমুখীর বাগান দেখতে প্রতিদিন প্রচুর লোকের সমাগম হয় বলে তিনি জানান।

সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুন্সী তোফায়েল হোসেন জানান, ১১ ইউনিয়নের ৮০ বিঘা জমিতে হাইসান-৩৩ জাতের সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। ফেনী জেলার সোনাইগাজীতে সূর্যমুখী ফুল দিয়ে সয়াবিন তেল তৈরির কারখানার সঙ্গে চুক্তি হয়ে বীজ ক্রয়ের।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. রবিউল হক মজুমদার বলেন, ‘সূর্যমুখী রোপণ নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। আবাহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আমরা আশা করছি।’ 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা