kalerkantho

সোমবার । ২৩ চৈত্র ১৪২৬। ৬ এপ্রিল ২০২০। ১১ শাবান ১৪৪১

মাসকালাইয়ের রুটি বেচে সংসার চলে আলিয়ার

হিলি (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৫:৪০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মাসকালাইয়ের রুটি বেচে সংসার চলে আলিয়ার

গ্রামবাংলার ঐতিহ্য মাসকালাইয়ের রুটি তৈরি ও বিক্রি করে ব্যস্ত সময় পার করছেন দিনাজপুরের হিলির আলিয়া বেগম। বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলে তার এই বেচাকেনা। মাসকালাই রুটি বিক্রি করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেন।

দেখা গেছে, হিলি মহিলা কলেজ সংলগ্ন জয়পুরহাট বাসস্ট্যান্ডে তৈরি করছেন তিনি মাসকালাইয়ের রুটি। দোকানের সামনে রাখা বেঞ্চে বসে কয়েকজন বাসযাত্রী তার হাতের তৈরি রুটি খাচ্ছেন। তাদের খাওয়ার গতি দেখে অনুমান করা যাচ্ছে তারা মনে হয় অনেকদিন ধরে এই খাবার খুঁজে আসছেন।

এক সময়ের রুটির দেশ কুষ্টিয়া জেলায় এই রুটির প্রচলন ছিল। এখন আর আগের মতো শোনা যায় না। তবে রাজশাহী জেলার অনেক স্থানে এই মাসকালাইয়ের রুটি বিক্রি করতে দেখা যায়।

একজন ৬০ বছর বয়সী বাসযাত্রীর সাথে কথা হয় তিনি বলেন, মাসকলাইয়ের রুটি বানানো দেখে আমি আর লোভ সামলাতে পারলাম না। অনেক আগে যখন মা বেঁচে ছিলেন তখন তিনি মাঝে মধ্যে মাসকালাইয়ের রুটি বাড়িতে তৈরি করতেন। এখনও সেই মায়ের হাতের রুটির স্বাদ অনুভব করি। আজ এই মহিলার হাতের বানানো মাসকালাইয়ের রুটি খেয়ে আমার মায়ের কথা মনে পড়ে গেলো।

জহিরুল ইসলাম নামে একজন ক্রেতা জানান, বেশ কয়েক বছর যাবত প্রতিদিন দুটা করে রুটি খাই। তার হাতের রুটি না খেলে আমার পেট ভরে না।

আলিয়া বেগম (৫০) জানান, আমি প্রায় ১৮ বছর ধরে মহিলা কলেজ এবং এই বাসস্ট্যান্ডে মাসকালাইয়ের রুটি তৈরি করে আসছি। চাউল ও মাসকালাইয়ের ডাল মিলে প্রতিদিন ৫ কেজি করে আটা তৈরি করি। তা থেকে প্রায় ৫০টি রুটি হয়। প্রতিটি রুটি ১০ টাকা করে বিক্রি করি। রুটির সাথে শুকনা মরিচ পেঁয়াজের চাটনি ও ধনাপাতার ভর্তা দিয়ে থাকি। প্রায় সময় ক্রেতার এতো ভিড় হয় আমি রুটি তৈরি করতে হিমশিম খাই। প্রতিদিন এ থেকে দুই থেকে আড়াই’শ টাকা আয় হয়। তাই দিয়ে এক ছেলে দুই মেয়েকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা