kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

অপহরণের ৪ দিন পর মিলল মাদরাসাছাত্রের গলা কাটা মরদেহ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৪:৩৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অপহরণের ৪ দিন পর মিলল মাদরাসাছাত্রের গলা কাটা মরদেহ

নিহত ও হত্যাকারী

কেরানীগঞ্জে অপহরণের ৪ দিন পর মো. মোকসেদুল মমিন (১৭) নামে মাদরাসাছাত্রের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের সহপাঠি মো. ফাহিম (১৯) কে আটকের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানাধীন রতনের খামার এলাকায় একটি নির্জন মাঠে বালুচাপা দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মোকসেদুল মমিন একই থানাধীন চুনকুটিয়া এলাকায় চানমিয়া ওহাবুল উলুম মাদরাসার ছাত্র। ফাহিমও ওই একই মাদরাসার শিক্ষার্থী। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

জানা যায়, গত সোমবার দুপুরে মোকসেদুল মমিন বাসা বের হবার পর নিখোঁজ হয়। এর পরদিন মোকসেদুলের মোবাইলে ফোন দিয়ে তার পিতাকে জানায় যে, তার ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে এবং জীবিত অবস্থায় পেতে হলে ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। মোকসেদুল মমিনের পিতা সাহাবুদ্দিন কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি জিডি করেন। পরে তিনি দুই দফায় মোট ১০ হাজার টাকা অপহরণকারীদের বিকাশের মাধ্যমে প্রদান করে।

মোকসেদুল মমিনের পিতা বিষয়টি র‌্যাবকে জানালে তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে অপহরণকারী ও মোকসেদুল মমিনের সহপাঠী ফাহিম (১৭) কে পুরান ঢাকার নবাবপুর রোড হতে গ্রেপ্তার করে। আসামি ফাহিমের স্বীকারোক্তি মোতাবেক মোকসেদুল মমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা একটি রক্তাক্ত চাকু উদ্ধার করা হয়।  

আসামী মো. ফাহিমের বরাত দিয়ে র‌্যাব ১০ কেরানীগঞ্জ ক্যাম্পের ডিএডি বদিউল আলম বলেন, ফাহিম ও মোকসেদুল মমিন সহপাঠী। মোটা অংকের টাকা আদায় করার লক্ষ্যে ফাহিম তার বন্ধু মো. আরিফ (২৩) এবং রাজুকে নিয়ে সুকৌশলে মোকসেদুল মমিকে অপহরণ করে ওই এলাকায় নিয়ে যায়। 

পরবর্তীতে জুসের সাথে ঘুমের ওষুধ দিয়ে প্রথমে মোকসেদুল মমিনকে অচেতন করে পরে চাকু দিয়া গলা কেটে হত্যা করে। লাশ মাটির মধ্যে চাপা দিয়া রেখে তার মোবাইল ফোনটি নিয়ে চলে আসে। পরবর্তীতে মোকসেদুল মমিনের ফোন দিয়ে তার পিতার নিকট ২ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং বিকাশের মাধ্যমে দুই দফায় ১০ হাজার টাকা আদায় করে। 

নিহত মোকসেদুল মমিনের মা মমতাজ বেগম বলেন, আমার ছেলে মাদরাসায় যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়েছে। পরে ছেলের মোবইলে ফোন দিলে অন্য কেউ ফোন ধরে বলে আপনার ছেলেকে অপহরণ করেছি তাকে জীবিত চাইলে ২ কোটি টাকা লাগবে। তখন আমরা বলেছি আমার ছেলেকে কিছু করবে না আমরা টাকা পাঠাব। পরে ১০ হাজার টাকাও পাঠিয়েছি কিন্তু তারপরও ওরা আমার ছেলেকে মেরে ফেলল। আমি এ হত্যাকাণ্ডের উপুযুক্ত বিচার চাই।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাছুম আহমেদ ভূঞা বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এ ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ডে জড়িত একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা