kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

অবাধে বালু উত্তোলন; ঝুঁকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেল ও সড়ক সেতু

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৩:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবাধে বালু উত্তোলন; ঝুঁকিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রেল ও সড়ক সেতু

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার বরমচাল ইউনিয়নে অবস্থিত পাহাড়ি বড়ছড়া থেকে অবাধে বালু তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, একটি রেলসেতু ও একটি সড়ক সেতুসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। 

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, বরমচাল ইউনিয়নের পশ্চিম দিকে অবস্থিত পাহাড়ি এলাকার কয়েকটি ছোট ছড়ার মিলিত রূপ হচ্ছে বড়ছড়া। এটি এলাকার সাত-আটটি গ্রাম হয়ে হাকালুকি হাওরের সাথে সংযুক্ত হয়ে ফানাই নদী গিয়ে মিশেছে। ছড়াটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার। ওই ছড়ার পাশ ঘেঁষে বরমচাল আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়, প্রাচীনতম শ্রী শ্রী গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর সেবাশ্রম নামের একটি মন্দির রয়েছে। এ ছাড়া ছড়াটির ওপর একটি রেলসেতু ও একটি সড়কসেতু রয়েছে। বছরখানেক ধরে ওই ছড়া থেকে অবাধে বালু তোলা শুরু হয়। দিনে বালু তুলে তা ছড়ার পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। রাতে ট্রলি বা ট্রাকযোগে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে তা বিক্রি করা হয়। প্রতিদিন প্রায় ২০ ট্রলি বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হয়। 

এলাকাবাসী আরো জানান, এই বড়ছড়ার বালু খুবই উন্নতমানের সিলিকা বালু হওয়ায় বাংলাদেশের জাতীয় জাদুঘরে সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছে। ২০০২ সালে এই ছড়া থেকে ইজারাভিত্তিতে বালু তোলা হতো। অবাধে বালু তোলার কারণে ছড়ার আশপাশের স্থাপনা রক্ষার জন্য এলাকাবাসীর আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতে একটি পিটিশন করা হয়। এরপর উচ্চ আদালত ছড়া থেকে বালু তোলা বন্ধের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে উন্নতমানের সিলিকা বালু হওয়ায় ছড়ার বালুগুলো সংরক্ষণ রাখার সিদ্ধান্ত হয়। বিগত কয়েক বছর পূর্বে স্থানীয় এলাকাবাসীর ব্যানারে অবাধে বালু উত্তোলন বন্ধে একটি মানববন্ধনও করা হয়।  

সরেজমিন দেখা যায়, বরমচাল নন্দনগরে বড়ছড়ার দুই পাশে একাধিক স্থানে বালুর স্তূপ করে রাখা হয়েছে। যেখান থেকে বালু তোলা হচ্ছে সেটি বরমচাল রেলব্রিজ ও সড়কব্রিজের মধ্যস্থল। এখান থেকে বালু উত্তোলনের কারণে ছড়ার ওপর স্থাপিত রেল ও সড়ক সেতুর নিচের ভিত্তির মাটি সরে যাচ্ছে। অবাধে বালু তোলায় ছড়ায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বরমচাল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দুই নেতা ও উপজেলা যুবলীগের এক নেতা এই বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত। তবে তাঁদের নাম বলতে অনীহা প্রকাশ করেন তারা।

গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির পরিচালনা কমিটির সম্পাদক শ্রীপদ বর্ধন জানান, ছড়া থেকে নিয়মিত অবাধে বালু তোলা হচ্ছে। রাতে বালু নেওয়ার সুবিধার্থে মহাপ্রভুর মন্দিরের বাইরে লাগানো বৈদ্যুতিক বাল্ব ভেঙে দেওয়া হয়। যাতে বালু নেওয়ার বিষয়টি কেউ না দেখতে পারে। বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও থানার টহল পুলিশকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। 

বরমচাল আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা রেজিয়া আক্তার জানান, বড়ছড়া থেকে অবাধে বালু তোলায় এটি অনেক গভীর হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল নামলে ছড়ায় মাত্রাতিরিক্ত স্রোত থাকে। এতে ছড়ার পাড় ভেঙে বিদ্যালয় ভবন ও পাকার সীমানাপ্রাচীর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

বরমচাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আহবাব শাহজাহান এ ব্যাপারে মুঠোফোনে বলেন, তার সময়কালে বড়ছড়া থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। একবার বালু উত্তোলনকালে বালুবোঝাই একটি গাড়ি জব্দ করে ইউনিয়নে নিয়ে আসা হয়। বালু উত্তোলনের বিষয়ে সব সময় নজরদারি ও কঠোর অবস্থানে রয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, বালু তোলার খবর পেয়ে স্থানীয় ভূমি অফিসের মাধ্যমে এক ট্রলি বালু জব্দ করা হয়েছে। এ কাজে জড়িতদের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা