kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

হালুয়াঘাটে বধ্যভূমির চত্বরে নির্বাচনী পোস্টার, শুকানো হয় গোবর

হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হালুয়াঘাটে বধ্যভূমির চত্বরে নির্বাচনী পোস্টার, শুকানো হয় গোবর

ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার গাঙ্গিনা নদীর পাড় ঘেষাঁ ব্রিজসংলগ্ন স্থানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে ঘটেছিল নৃশংস গণহত্যা। এই স্থানে স্বজনদের হারিয়েছেন এ অঞ্চলের অনেক মানুষ। পাকিস্তানের সেনারা এখানে মুক্তিকামী মানুষকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিত। তাই এখানে নির্মাণ করা হয়েছে বধ্যভূমি স্তৃতিস্তম্ভ। এটি এখন অযত্নে নষ্ট হচ্ছে।

জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০১১ সালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ‘বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণ করে একাত্তরের শহীদদের স্মরণ করা হলেও দরকারি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে স্মৃতিস্তম্ভটি বিভিন্ন সময় নির্বাচনী পোস্টারে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, গবাদি পশুর গোবর শুকানোর স্থান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে এই বধ্যভূমি চত্বর। এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোফাজ্জল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, এই বধ্যভূমির স্মৃতি রক্ষায় সরকার ও এলাকাবাসীকে আন্তরিক হতে হবে। এটি কোনো হাসি-তামাশার জায়গা নয়। বাঙালি জাতির গৌরবমাখা ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে।

আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক বলেন, এখানে যারা নির্বাচনী পোস্টার ব্যবহার করেছে তাদের অবিলম্বে বিচার করতে হবে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেসব বর্বরোচিত নির্যাতন, গণহত্যা, লুণ্ঠন ও ধর্ষণের ঘটনা নির্বিঘ্নে চালিয়েছিল তা হালুয়াঘাটের মানুষ আজো ভুলতে পারেনি। ৩নং কৈচাপুর ইউনিয়নের গাঙ্গিনা নদীর পাড়ঘেঁষা গাঙ্গিনা ব্রিজসংলগ্ন জায়গায় বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি, বাস ও নৌকা থামিয়ে সর্বসাধারণকে নামিয়ে তাদের সর্বস্ব লুটসহ নির্বিচারে গণহত্যায় মেতে উঠত পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার আলবদররা। নারী-পুরুষদের হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দিত হায়নার দল।

হালুয়াঘাট মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা কবিরুল ইসলাম বেগ এ বিষয়ে বলেন, বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভটি জেলা পরিষদের উদ্যোগে ২০১১ সালে মুক্তিযুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মরণে নির্মাণ করা হয়। এখানে সরু একটি ব্রিজ ছিল। ব্রিজের উভয় পাশে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা দাঁড়িয়ে থেকে গাড়ি থামিয়ে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বাংলার মুক্তিকামী জনসাধারণকে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিমর্মভাবে, নির্বিচারে হত্যা করেছে এবং নদীতে লাশ ভাসিয়ে দিয়েছে। এই স্মৃতিস্তম্ভটি শহীদের রক্তের ফসল। এখানে যেসব ব্যক্তিরা পোস্টার লাগিয়েছেন তারা ভালো কাজ করেননি। তিনি এই স্মৃতিস্তম্ভটির ফলক চত্বরে গবাদি পশুর গোবর শুকানোর বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউর করিম বলেন, স্মৃতিস্তম্ভে পোস্টার লাগানো ও গোবর শুকানোর বিষয়টি আমি জানতাম না। এই কাজ যারা করেছে তারা অবশ্যই নিন্দনীয় কাজ করেছে। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

এলাকাবাসী ও মুক্তিযোদ্ধারা বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভটিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকল্পে সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা