kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

পরীক্ষার খাতা না দেখানোর জের

দুর্গাপুরে ২ দাখিল পরীক্ষার্থীকে মারধর

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১২:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্গাপুরে ২ দাখিল পরীক্ষার্থীকে মারধর

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে মধুয়াকোনা এ,ইউ আলিম মাদরাসার দুইজন দাখিল পরীক্ষার্থীকে (কৃষি ব্যবহারিক) পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় মারধরের অভিযোগ উঠেছে দ্বীনি আলিম মাদ্রাসার তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দুর্গাপুর দ্বীনি আলিম মাদ্রাসার গেইটের সামনে এ মারপিটের ঘটনা ঘটেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, দুর্গাপুর দ্বীনি আলিম মাদ্রাসাটি কেন্দ্র হিসেবে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ঐ কেন্দ্রে মধূয়াকোনা এ.ইউ আলিম মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।

মারপিটের শিকার মধূয়াকোনা এ,ইউ আলিম মাদ্রাসা’র দাখিল পরীক্ষার্থী মোশারফ হোসেন (১৬), ইসরাফিল মিয়া (১৬) প্রতিনিধিকে জানান, দ্বীনি দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষা কেন্দ্রে শুরু থেকে প্রথম সিটে বসে পরীক্ষা দিচ্ছিলাম। আমার পেছনের সিটে বসে পরীক্ষা দিচ্ছিল দ্বীনি দাখিল মাদ্রাসার পরীক্ষার্থী নুরুল্লাহ, নুরু ও ইমরান। নুরুল্লাহ প্রথম পরীক্ষা থেকেই মোশারফ হোসেন এর পরীক্ষার খাতা দেখে লেখার জন্য সুযোগ দিতে বলেন। কিন্তু খাতা দেখাতে রাজী হননি মোশারফ হোসেন। দ্বিতীয় পরীক্ষার দিনে আবার বিরক্ত করতে লাগলে ডিউটিরত শিক্ষককে বিষয়টি অবহিত করলেও কোন প্রতিকার মেলেনি। খাতা না দেখানোর জের ধরে পূর্বে থেকেই হুকমী দিয়ে আসছে নুরুল্লাহ,নুরু ও অজ্ঞাত একজন। সেই সুযোগে বুধবার কৃষি ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষে কেন্দ্র থেকে বের হতে থাকলে মাথার পিছনে এলোপাতারি মারতে শুরু করে তারা। পরে অন্যান্য পরীক্ষার্থীরা দৌড়ে এলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

বিষয়টি ধামাচাপা দিতে দ্বীনি আলিম মাদরাসার পিন্সিপাল ও কেন্দ্র সচিব আব্দুর রহমান নাটকীয় ভূমিকার জন্ম দেন। তিনি তার প্রতিষ্ঠানের অভিযুক্ত তিন শিক্ষার্থীর বিচার করতে পারবেন না বলে সাংবাদিকদের স্পষ্ট জানান।

দ্বীনি আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও কেন্দ্র সচিব আব্দুর রহমান প্রতিনিধিকে জানান, বিষয়টি আমি মীমাংসার চেষ্টা করছি।

মধুয়াকোনা এ.ইউ আলিম মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল আজিজুল ইসলাম প্রতিনিধিকে জানান, আমার দুই দাখিল পরীক্ষার্থীকে মারপিটের বিষয়টি আমি শুনে কষ্ট পেয়েছি।

তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে সম্পৃক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও কেন্দ্র সচিব এটি আমার দাবী।

এ বিষয়ে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার নাসির উদ্দিনের নিকট জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। আমি দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের বলেছি বিষয়টি মীমাংসার জন্যে। যদি তারা ব্যর্থ হয় তাহলে বিষয়টি ইউএনও মহোদয়কে জানাতে বলেছি।

এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ইউএনও ফারজানা খানমের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন,এ বিষয় আমাকে কেউ অবগত করেনি। তবে বিষয়টি আমি দেখছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা