kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৪ চৈত্র ১৪২৬। ৭ এপ্রিল ২০২০। ১২ শাবান ১৪৪১

ইকোনমিক জোনের বিরুদ্ধে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধের অভিযোগ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৬:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইকোনমিক জোনের বিরুদ্ধে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধের অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট এলাকায় কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনের কার্যক্রম শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ইকোনমিক জোনের নিজস্ব সম্পত্তির উপর দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পাশাপাশি এলাকার ফসলি জমির পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে বর্ষাকালে উজানের শত শত একর ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বোরো, আমন, আউশ ও শাক সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানায়, পাকুন্দিয়া উপজেলার পুলেরঘাট এলাকার যে জায়গায় ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে ওই জায়গায় একটি খাল, ইউনিয়ন পরিষদের একটি কালভার্ট ও রেলওয়ে সড়কের দুটি কালভার্ট ছিল। ওইসব কালভার্ট দিয়ে আদিকাল থেকে পার্শ্ববর্তী এলাকার উজানের পানি নিষ্কাশিত হতো। সম্প্রতি ইকোনমিক জোনের নির্মাণ কর্তৃপক্ষ ওইসব কালভার্ট ভেঙে দিয়ে নিজস্ব সম্পত্তির চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে। এতে কালভার্টগুলোর নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এমন অভিযোগ এনে গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ দেন মাইজহাটি গ্রামের এ.কে.এম আবু তাহের নামের এক ব্যক্তি।

ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আজ বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদ হাসান। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন কিশোরগঞ্জের পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শামসুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাবিবুল্লাহ, কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনের প্রকল্প প্রধান মোহাম্মদ ওমর ফারুকসহ কর্মকর্তারা। সে সময় তারা ইকোনমিক জোনের নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীরের পুরো এলাকা ঘুরে দেখেন। পরে ইকোনমিক জোনের অফিস কক্ষে গিয়ে তাদের নিয়ে আলোচনায় বসেন।

মাইজহাটি গ্রামের আবু তাহের, আওলাদ হোসেন ও গোলাপ মেম্বারসহ কয়েকজন বলেন, তিনটি কালভার্ট দিয়ে আদিকাল থেকে ১২টি গ্রামের পানি নিষ্কাশিত হতো। ওই তিনটি কালভার্ট ভেঙ্গে দিয়ে ও একটি খালের মুখ বন্ধ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে ইকোনমিক জোনের কর্তৃপক্ষ। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি আমরা।

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ ইকোনমিক জোনের প্রকল্প প্রধান মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এলাকার পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রেখেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। আমাদের তৈরি প্ল্যান ইউএনও স্যারের কাছে জমা দিয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী, উপজেলা প্রকৌশলী ও ইকোনমিক জোনের কর্তৃপক্ষকে নিয়ে এ ব্যাপারে আলোচনায় বসেছি। আলোচনার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সঠিক পথ বের করতে পারব বলে আশা করছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা