kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

৩৮ বছর পর ফিরেও স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে বাধা হলো 'ফতোয়া'

সাপাহার (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৩:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



৩৮ বছর পর ফিরেও স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে বাধা হলো 'ফতোয়া'

নিখোঁজের ৩৮ বছর পর ফিরে আসা নুরুজ্জামান (৬০)

নওগাঁর সাপাহারে নিখোঁজের ৩ যুগ পর বাসায় ফেরা এক ব্যক্তির পরিবারে আনন্দের বন্যা বইলেও গ্রাম্য ফতোয়ার কারণে ৩ দিনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এখনও দেখা-সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। এমনই ঘটনা ঘটেছে উপজেলার দক্ষিণ আলাদীপুর গ্রামে। 

তিন যুগ পর ফিরে আসা ব্যক্তির পারিবারিক ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত বাঘ রাজ্জাক এর ছেলে তখনকার দিনে টগবগে যুবক নুরুজ্জামান বর্তমান (৬০) ১৯৮২ সালে পারিবারিক  দ্বন্দ্বের কারণে বাবার ওপর রাগ করে স্ত্রী ও সন্তান রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এর পরে তার পরিবারের লোকজনেরা তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোথাও না পেয়ে হাল ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে পরিবারের লোকজনের ধারণা সে হয়তো ভারতে গেছে অথবা মারা গেছে। এই ধারণা নিয়ে নুরুজ্জামানের স্ত্রী আরিফন বিবি সে সময় তার গর্ভের সন্তানসহ নাবালক দুই ছেলেকে নিয়ে উপজেলার কৃষ্ণসদা গ্রামে তার বাবার বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং এখন পর্যন্ত কোনো দ্বিতীয় বিয়ে না করেই সেখানে সন্তানদের নিয়ে বাবার সংসারে বসবাস করে আসে। 

তার সন্তানরা বড় হয় এবং বিয়ে করে মাকে নিয়ে সংসার করতে থাকে। এমনি অবস্থায় গত সোমবার দুপুরে হঠাৎ করে নিরুদ্দেশ হওয়া নুরুজ্জামানের আগমন ঘটে তার বাবার বাসা দক্ষিণ আলাদিপুর গ্রামে। দীর্ঘ ৩৮ বছর পর গ্রামে ফিরে আসায় নুরুজ্জামানকে নিয়ে গ্রামে বেশ হইচই পড়ে যায়। সংবাদ পেয়ে নানা বাড়ি থাকা তার ছেলেরা ছুটে চলে আসে বাবাকে একনজর দেখার জন্য। মুহূর্তে সেখানে বাবা-ছেলের মধ্যে ঘটে এক মিলনমেলা। এই দৃশ্য দেখার জন্য শত শত মানূস সেখানে ছুটে আসে। 

কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ইচ্ছে থাকলেও গ্রাম্য মাতব্বরদের ফতোয়ার কারণে একে অপরের সাথে এখনও সাক্ষাৎ কিংবা দেখা করতে পারেনি তারা। গ্রামের লোকজন বলছে কেন স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ১২ বছর সম্পর্ক না থাকলে সে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটে যায়। এখন তারা আর স্বামী-স্ত্রী নয়। এ কথার ওপর ভিত্তি করে তাদের (স্বামী-স্ত্রী) মধ্যে দেখা কিংবা কথা বরতে দেওয়া হয়নি।

৩ যুগ পর ফিরে আসা নুরুজ্জামানের সাথে কথা হলে তিনি জানান, সে সময় তিনি তার বাবার ওপর রাগ করে বাড়ি থেকে বের হয়ে গিয়েছিল এর পর সে দীর্ঘদিন রংপুর শহরে থেকে জীবনযাপন করতে থাকে এবং ১৯৮৫ সালের দিকে আর বাসায় ফিরবে না প্রতিজ্ঞা করে সেখানে দ্বিতীয় বিয়ে করে নতুন করে সংসার পাতে। এরই মধ্যে সেখানে তার সে সংসারে ৩টি ছেলের জন্ম হয়। এর মধ্যে নিজ বাসায় ফিরতে তার ইচ্ছে হলেও বিভিন্ন কারণে তার আসা হয়নি। এখন তিনি দুটি সংসারই রেখে নতুন করে আগের সংসারের সাথে সম্পর্ক রাখতে চায়। 

স্ত্রী আরিফন জানান, সে তার স্বামীর সাথে দেখা ও সংসার করতে চায় তবে শরিয়তের কোনো বিধিনিষেধ থাকলে সেগুলো মান্য করে তিনি তার স্বামীর সাথে দেখা করবেন বলেও জানান। 

গোয়ালা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান মুকুল এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে বিষয়টি তিনি জানেন না বলে জানান। বিষয়টি তিনি সমাধান করে দেবেন বলে জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা