kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

রাতে চলে মাটি ও ইটভর্তি ট্রাক

ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর নিচে ঝুঁকি নিয়ে বাস

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৬:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর নিচে ঝুঁকি নিয়ে বাস

ঢাকার ধামরাইয়ে একটি ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর নিচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মিলের শ্রমিকদের বাস করতে বাধ্য করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত এক বছর ধরে সেতুটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করছে। অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের ফলে সেতু দুর্বল হয়ে পড়েছে। গত ১৫ দিন আগে সেতুর ওপর ভারী যানবাহন উঠলেই বিকট শব্দে সেতুটির স্টিলের পাটাতন ও স্টিলের বিম ফেটে যায়। এতে সেতুর নিচে বসবাস করা শ্রমিকরা আতঙ্কে ছুটোছুটি করতে থাকে। আছে উপজেলা প্রশাসন, থানা প্রশাসন, পৌর কর্তৃপক্ষ- কিন্তু দেখার কেউ নেই। এখন প্রশ্ন, বড় ধরনের দুর্ঘটনায় কারো প্রাণহানি হলে দায় নেবে কে?

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধামরাই পৌরসভার মাধববাড়ি ও শরীফবাগ এলাকায় বংশী নদীর ওপর একটি বেইলি সেতুর নিচে চারটি টিনের ছাপড়া ঘর আছে। ওই ছাপড়া ঘরে বসবাস করছে ধান মিলের ২০-২৫ জন শ্রমিক। তাদের রান্না-বান্নার জন্য গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। রয়েছে তিতাস গ্যাসের রাইজার। এসবের ওপরে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতু। এ সেতুটি ১৯৯৯ সালে নির্মাণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত মালামাল নিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করায় সেতুটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আবার বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এরপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে শ্রমিকরা। গত ১৫ দিন আগে মালবাহী একটি লরি সেতুটির ওপর উঠতেই দক্ষিণপাশে সেতুর স্টিলের পাটাতন ও স্টিলের বিম বিকট শব্দে ফেটে যায়। আতঙ্কে ছাপড়া ঘর থেকে বের হয়ে ছোটাছুটি করতে থাকে শ্রমিকরা। একদিন পর সড়ক ও জনপথ দপ্তর থেকে ঝালাই দিয়ে মেরামত করা হয়েছে। ভারী যানবাহন যাতে চলাচল করতে না পারে সে জন্য স্টিলের বার দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ইটভাটায় মাটি সরবরাহকারী সিরাজ উদ্দিন পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট দ্প্তরকে ম্যানেজ করে বারের নিচ দিয়ে রাতের বেলায় শতশত মাটির ট্রাক ও ইটভর্তি ট্রাক চলাচল করছে বলে জানা গেছে। এতে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। 

চাতালের শ্রমিক সরদার শাহাদাত হোসেন, শহিদুল ইসলাম ও গোলাম মোস্তফাসহ অনেকেই জানান, মিলের ভাড়াটিয়া মালিক বাদল হোসেনকে বারবার বলা সত্ত্বেও আমাদের অন্য জায়গায় থাকার ব্যবস্থা করছে না। ফলে বাধ্য হয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুর নিচে বাস করছি। চাতাল পরিচালনাকারী ভাড়াটিয়া বাদল হোসেন বলেন, আমি চার মাস ধরে মিলটি ভাড়া নিয়েছি। এর আগে থেকেই শ্রমিকরা সেতুর নিচে বাস করছে। মূলত মিলের মালিক আশরাফ শ্রমিকদের স্থানান্তর করবে। 

মানিকগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমির হোসেন বলেন, সেতুটি দিয়ে শুধুমাত্র রিকসা, ভ্যানসহ সর্বোচ্চ প্রাইভেট কার যেতে পারবে। অন্য কোনো ভারী যানবহন চলাচল নিষেধ করা হয়েছে। 

উল্লেখ্য, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা-কালিয়াকৈর-মাওনা পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রায় ৫০ কিলোমিটার প্রশস্ত ও পাকাকরণের কাজ চলছে প্রায় এক বছর ধরে। এ সড়কের বংশী নদীর ওপর আইঙ্গনে প্রায় ১২ বছর আগে নির্মিত সেতুটি ভেঙে প্রশস্ত করে আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে কোনো ডাইভারসন বা বিকল্প ব্যবস্থা না করার ফলে মাধববাড়ি ঘাট-শরীফবাগ সরু বেইলি সেতুর ওপর দিয়ে অতিরিক্ত যানবাহন চলাচল করায় সেতুটির ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে গেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা