kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকায় শহীদ মিনারের অভাব পূরণ

হাফিজুর রহমান চয়ন, হাওরাঞ্চল    

২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকায় শহীদ মিনারের অভাব পূরণ

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলার উদয়পুর গ্রামের খেলন তালুকদার নামে প্রয়াত এক মুক্তিযোদ্ধার জমানো ভাতার টাকায় নিজ গ্রামে একটি শহীদ মিনার স্থাপন করে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

গত প্রায় এক যুগ ধরে এলাকার শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার লোকজন প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারিতে এখানে এসে ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রভাত ফেরি শেষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে আসছেন।

প্রত্যন্ত হাওরাঞ্চল খ্যাত উপজেলার নগর ইউনিয়নের উদয়পুর গ্রামের প্রয়াত বসন্ত তালুকদারের ছেলে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা খেলন তালুকদার ছিলেন একজন স্বপ্নদ্রষ্টা মানুষ। 

সহস্রাধিক জনগোষ্ঠীর বসবাসের এ উদয়পুর গ্রামটিতে স্কুল, হাট-বাজার ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থাকলেও ছিল না স্থায়ী শহীদ মিনার। তাই তিনি তাঁর জীবদ্দশায় মুক্তিযোদ্ধার ভাতা থেকে অল্প অল্প করে মাসে মাসে জমানো টাকায় গ্রামের নিজ বাড়িতেই স্থায়ীভাবে এ শহীদ মিনারটি নির্মাণ করে গেছেন।

এসব তথ্য জানিয়ে উদয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রান্তোষ সামন্ত জানান, গ্রামের প্রায় পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে আর কোনো শহীদ মিনার নেই। এ শহীদ মিনারটি স্থানীয়দের মাঝেও বিশেষ ভূমিকা রেখে আসার পাশাপাশি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও দেশাত্মবোধে উদ্বুদ্ধ করে আসছে।

তিনি আরো বলেন, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা খেলন তালুকদারের উদারতায় ওই শহীদ মিনারটি গড়ে উঠেছে বলেই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের নিয়ে আজ ২১ ফেব্রুয়ারিতে প্রভাত ফেরি শেষে এখানে শহীদ স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা সম্ভব হয়েছে।

গ্রামের শিক্ষিত ও প্রগতিশীল যুবক অসীম সরকার আক্ষেপ করে বলেন, তিনি তার প্রাথমিক শিক্ষা জীবনে নিভৃত এ পল্লীতে শহীদ মিনার পাননি বলে মাতৃভাষা দিবসের প্রায়শই তার ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব হতো না শহীদদের প্রতি। এখন এখানে শহীদ মিনারটি হয়েছে বলেই এখানকার শিশুরা তাতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছে।

খেলন তালুকদারের ছেলে সুব্রত তালুকদার জানান, তার বাবা মুক্তিযোদ্ধা ভাতার টাকা বেশ কয়েক মাস জমিয়ে প্রায় ১৫ হাজার টাকা ব্যয়ে এ শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেছিলেন ২০০৮ সালে। তিনি অবশ্য ৭১ বছর বয়সে ২০১৯ সালের ১৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন। এখানকার কোমলমতি শিশু ও তরুণ শিক্ষার্থীদের ভাষা আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস ও জ্ঞান চর্চায় উৎসাহিত করতে এবং শহীদদের ফুলেল শ্রদ্ধা জানানোর সুবিধার্থে এ শহীদ মিনারটি নির্মাণ করেছিলেন খেলন তালুকদার। তার স্বপ্ন ছিল সরকারি উদ্যোগে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপন দেখে যাবার।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান হরিধন সরকার শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) প্রভাতে ওই শহীদ মিনারে শহীদ স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জানান, তিনি ক্রমান্বয়ে এ ইউনিয়নের সবকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার স্থাপন করবেন। বিশাল জায়গা জুড়ে লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে শহীদ মিনার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না তিনি। তাই ইউনিয়নটির বল্লভপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাঘাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নির্মাণের জন্য সম্প্রতি দেড় লক্ষ টাকা টি আর থেকে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা