kalerkantho

সোমবার  । ১৬ চৈত্র ১৪২৬। ৩০ মার্চ ২০২০। ৪ শাবান ১৪৪১

করোনাভাইরাস সনাক্ত করবে ‘রোবট’!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:০১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনাভাইরাস সনাক্ত করবে ‘রোবট’!

শরীরের তাপমাত্রা, রক্তচাপ, হার্টবিট পরিমাপ করতে সংশ্লিষ্ট কারো সামনে যেতে হবে না। ব্যবহার করতে হবে না সংশ্লিষ্ট কোনো যন্ত্রাংশ। এমনকি এসব কারণে প্রয়োজনীয় ওষুধও ‘রোগীর’ কাছে নিয়ে যেতে হবে না। এসব কাজ করবে ‘রোবট’!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রোমেডিক্যাল বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ ‘রোবটটি’ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এ ‘রোবটটির’ নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিস্টার ইলেক্ট্রোমেডিকেল’। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরাই এ নাম দিয়েছেন। ‘রোবটটি’ চলাফেরা করার পাশাপাশি সালাম দিয়ে নিজের নাম, দেশের নাম, জাতির জনকের নাম ও প্রধানমন্ত্রীর নাম বলতে পারে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এ রোবটটিকে বর্তমান সময়ে করোনাভাইরাস সনাক্ত করতেও কাজে লাগানো যাবে। এটিকে বাংলাদেশের প্রথম ‘মেডিক্যাল রোবট’ বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। আর্থিক সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে এর প্রসার ঘটানোর কথাও বলেছেন তাঁরা।

জানা গেছে, ইনস্টিটিউটটির পাঁচ শিক্ষার্থী ‘রোবটটি’ তৈরি করেছে। তাঁরা হলেন- অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান, মো. আনাছুর রহমান, মো. মীর আমীন, মেহেদী হাসান ও ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. আব্দুল মান্নাফ। ১৫ দিনে তাঁরা ওই ‘রোবটটি’ তৈরি করেন। ইলেকট্রোমেডিক্যাল বিভাগের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর (টেক) মো. আবুল কাশেম এ কাজে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।

এ বছরের ৭ জানুয়ারি রোবটটি তৈরির কাজ শুরু করা হয়। ২৩ জানুয়ারি এটি ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রোবটটিকে আরো একটু উন্নত করার চেষ্টা চলছে। এটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকার মতো।

আরো জানা গেছে, মাদকাসক্ত কাউকে সনাক্ত করতে ও আগুন লাগার খবর দিতে রোবটটিতে নতুন যন্ত্রাংশ যুক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া যে কোনো জায়গা থেকে মোবাইল ফোনে এটিকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি অ্যাপস তৈরির কাজও চলছে।

রোবট তৈরির কাজে জড়িতরা কালের কণ্ঠকে জানান, মানুষের শরীরের তাপমাত্রা, রক্তচাপ, হার্টবিট, কোলেস্টরেলসহ বিভিন্ন সমস্যা নির্ণয়ের জন্য এতে বিপি মনিটর, ইসিজি সেন্সর, পালস অক্সিমেটরি সেন্সর, থার্মাল স্ক্যানার ইত্যাদি স্থাপন করা হয়েছে। চলাফেরার জন্য লাগানো হয়েছে ক্যামেরা ও আল্ট্রাসনিক সেন্সর। ইতিমধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে এর ব্যবহার শুরু করা হয়েছে। সবগুলোই যন্ত্র ঠিকভাবে কাজ করছে।

রোবট তৈরির কাজে জড়িত আব্দুল মান্নাফ আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমাদের কাজ হচ্ছে মেডিক্যাল যন্ত্রাংশ নিয়ে। তাই এ নিয়ে একটি আধুনিক কিছু করার চিন্তা নেওয়া হয়। এ কাজে জড়িত পাঁচ শিক্ষার্থীসহ আরো কয়েকজনের আর্থিক সহযোগিতায় কাজে হাত দেই। ‘রোবটটিকে’ ধীরে ধীরে আরো আধুনিক করে তোলার চেষ্টা চলছে।’

ইনস্টিটিউটের টেকনোলজি বিভাগের জুনিয়র ইন্সট্রাক্টর মো. আবুল কাশেম বলেন, ‘আমার জানা মতে দেশে এটিই প্রথম মেডিক্যাল ‘রোবট’। করোনাভাইরাসের বিষয়টি সামনে রেখে ও শিক্ষার্থীরা যেহেতু মেডিক্যাল নিয়ে কাজ করে সেই চিন্তা থেকেই এ রোবট তৈরি করেছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা