kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ১৯ চৈত্র ১৪২৬। ২ এপ্রিল ২০২০। ৭ শাবান ১৪৪১

বিয়ের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা দাবি, নির্যাতন

নরসিংদী প্রতিনিধি   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২৩:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিয়ের ফাঁদে ফেলে ১০ লাখ টাকা দাবি, নির্যাতন

ঘটনাটি গত বছরের। আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক যুবককে নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যুবকের নাম রাসেল হাসান (২৭)। তাঁর বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মধ্যপাড়া দিঘীরপাড়। তিনি একজন প্রবাসী। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার র‌্যাব-১১ তে তিনি একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

র‌্যাব-১১ থেকে বৃহস্পতিবার রাতে পাওয়া এক মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, গেঞ্জি ও ফুলপ্যান্ট পরা এক যুবকের দুই হাত রশি দিয়ে কোমরের পেছনে বাঁধা। পা দুটিও হাঁটুর নিচ থেকে রশি দিয়ে বাঁধা। মুখ কালো কাপড়ে বাঁধা। বন্ধ একটি কক্ষের মেঝেতে ফেলে লাঠি দিয়ে ওই যুবকের পায়ের মধ্যে মারছেন এক ব্যক্তি। আর এতে যন্ত্রণায় জোরে জোরে চিৎকার করছেন ওই যুবক। আর পাশ থেকে কেউ একজন তা ধারণ করছেন। এরমধ্যে দুই তিন বার আঘাতের পর ওই যুবককে বলা হচ্ছে, ১০ লাখ টাকা নিয়ে আয়। এরপর পুনরায় আঘাত। কিছু সময় পর ওই যুবকের মাথা পা দিয়ে চেপে ধরে আবারও আঘাত।

ভুক্তভোগী রাসেল হাসান লিখিত অভিযোগে জানান, গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর তিনি সৌদি আরব থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিজ বাড়িতে আসেন। বিদেশে থাকাকালীন তার শ্বশুর নয়ন ইসলাম বাদল ব্যবসা করার কথা বলে তার কাছ থেকে দুই লাখ টাকা ধার হিসেবে নেন। তিনি দেশে ফেরার পর পাওনা টাকা ফেরত চাইলে শ্বশুর তালবাহানা করতে থাকেন। একপর্যায়ে এ নিয়ে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয়। পরে তার স্ত্রী মারিয়া আক্তার মন্টির (২৩) সহায়তায় নরসিংদী সদর মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ পর্ণোগ্রাফী নিয়ন্ত্রণপর্নোগ্রাফি আইনে রাসেলসহ তার পরিবারের সদস্যদের নামে মামলা করেন।

অভিযোগপত্রে রাসেল আরো জানান, নিজের স্ত্রীকে অপহরণ করা হয়েছে মর্মে মামলায় উল্লেখ ছিল। কিন্তু ঘটনার উল্লেখের সময় বিদেশে অবস্থান করায় আদালত মিথ্যা মামলা হিসেবে তাকে জামিন দেয়। জামিনে বেরিয়ে একপর্যায়ে বিবাদ মীমাংসা করার কথা বলে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তাকে শ্বশুরবাড়ি নরসিংদীর বানিয়াছল এলাকায় ডেকে পাঠায়। তখন সরল বিশ্বাসে নরসিংদীতে আসলে শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভুয়া পুলিশ সাজিয়ে গ্রেপ্তারের নামে অপহরণ করে তাকে।

তিনি জানান, অপহরণের পর তার ওপর নির্যাতন করা হয়। তার বড় শ্যালক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী পাপ্পু ও তার বন্ধুরা নির্যাতন করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় পাপ্পু ও তার বন্ধুরা শ্বশুর নয়ন ইসলাম বাদলের নির্দেশে আবারো নির্যাতন করে। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে বিবস্ত্র করে পুরুষাঙ্গে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক হাতে দিয়ে ছবি তোলে মোবাইলে ভিডিও ধারণ করে। পরে রাসেলের ওপর নির্যাতনের ভিডিও তার মাকে পাঠিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা হয়। আইনের সহায়তা না নেওয়ার জন্য হুমকিও দেওয়া হয়। এতে তার মা হার্ট অ্যাটাক করেন। পরে কৌশলে অপহরণকারীদের কাছ থেকে পালিয়ে আসেন রাসেল। পরবর্তীতে দুবার নরসিংদী সদর মডেল থানায় মামলা করতে গেলে অস্ত্র হাতে তোলা ছবি ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিতে মামলা না করেই ফেরত আসেন রাসেল।

র‌্যাব-১১ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আলেপ উদ্দিন বলেন, আমরা রাসেল হাসানের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করছি। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পলাতক রয়েছেন। আশা করছি, এ ঘটনায় জড়িতদের শিগগিরই আইনের আওতায় আনতে পারব।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা