kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থানটির ৪৮ বছর আজ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি    

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০২:১৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্থানটির ৪৮ বছর আজ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তান কারাগার থেকে মুক্ত হবার পর তিনি ঢাকার বাইরে সর্বপ্রথম ১৯৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতির চর পোড়াগাছা গ্রামে আসেন। দেখতে দেখতে সেই স্মৃতিময় দিনটির আজ ৪৮ বছর পার হয়ে গেল।  কিন্তু আজও বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষায় সেখানে কোনো স্থাপনা নির্মাণ না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, ৭২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সকালে হেলিকপ্টারযোগে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান চর পোড়াগাছায় আসেন। এরপর সংক্ষিপ্ত ভাষণ শেষে ওড়া-কোদাল নিয়ে নিজ হাতে মাটি কেটে স্বেচ্ছাশ্রমে তিনি রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। বঙ্গবন্ধুর হাতে শুরু হওয়া সেই রাস্তাটি এখন রামগতি-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর বঙ্গবন্ধুর পদধূলিত সেই স্থানটি 'শেখের কিল্লা' নামে বেশ পরিচিত। রামগতিতে বঙ্গবন্ধুর আগমনের ৪৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিকালে শেখের কিল্লা মাইলস্টোন পাদদেশে সার্বজনীন কর্মসূচি পালন করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কিল্লার পাশে পরবর্তীতে গড়ে উঠেছে দেশের প্রথম গুচ্ছগ্রাম। ২০১৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত শেখের কিল্লা স্থানটি পরিদর্শন করেন। তখন সর্বসম্মতিক্রমে জাতির পিতার স্মৃতি রক্ষায় সেখানে শেখের কিল্লার পরিবর্তে বঙ্গবন্ধু শেখের কিল্লা নামকরণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর পদধূলিত সঠিক স্থানটি চিহ্নিত করে ‘বঙ্গবন্ধু শেখের কিল্লা স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণের আশ্বাস দেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোনো কাজ শুরু হয়নি।

স্থানীয়রা জানায়, গুরুত্বপূর্ণ স্থানটির ইতিহাস তুলে ধরতে বেসরকারি সংস্থা ‘ডর্প’র উদ্যোগে কয়েক বছর আগে ‘শেখের কিল্লা মাইলস্টোন’ স্থাপন করা হয়েছে। এটি স্থানীয় ও দেশ-বিদেশের পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষিত করছে।

চরপড়াগাছায় বঙ্গবন্ধুর দেওয়া সেই বক্তব্যটি প্রত্যক্ষভাবে শুনেছেন ডর্প'র প্রতিষ্ঠাতা এএইচএম নোমান। জানতে চাইলে তিনি বলেন, সেদিন ‘দেশ গড়ার ডাক’ দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কিল্লায় দাঁড়িয়ে গগণবিদারী কণ্ঠে বলেছিলেন ‘দেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে, উৎপাদন বাড়াতে হবে, প্রত্যেক বাড়িতে একটি করে গাছ হলেও লাগাতে হবে। স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে দেশ গড়া ও অর্থনৈতিক মুক্তি আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে’।

তিনি আরো বলেন, কিল্লা স্থানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ, পর্যটক রেস্ট হাউজ, স্থানীয় সংস্কৃতি, বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ইতিহাসসহ পাঠাগার সম্বলিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখের কিল্লা স্বপ্ন কমপ্লেক্স’ স্থাপন অত্যন্ত প্রয়োজন। এতে স্থানটির গুরুত্ব তৈরি হবে এবং মেঘনার নদীসহ একটি পর্যটন এলাকা গড়ে উঠবে।

স্থানীয়ভাবে গড়ে ওঠা ‘বঙ্গবন্ধু শেখের কিল্লা স্মৃতি ইতিহাস রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব মো. মোমিন উল্যাহ জানান, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি রক্ষা করলে এলাকার উন্নয়ন হবে। সঠিক স্থানে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের জন্য আমরা সরকারের কাছে জোড় দাবি জানাই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা