kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

সিঙ্গাইরে ভালোবাসায় সিক্ত যুক্তরাজ্যের মেয়র রৌশনারা

মোবারক হোসেন, সিঙ্গাইর (মানিকগঞ্জ)   

২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০১:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সিঙ্গাইরে ভালোবাসায় সিক্ত যুক্তরাজ্যের মেয়র রৌশনারা

গ্রামের মানুষের অকৃতিম ভালোবাসায় সিক্ত মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার কৃতিসন্তান যুক্তরাজ্যের রামসগেট সিটির মেয়র রৌশনারা দোলন। বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) জন্মভূমি উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইরতা গ্রামে পৌঁছালে হাজারো গ্রামবাসী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। দেওয়া হয় উষ্ণ সংবর্ধনা। নিজ গ্রামের সর্বস্তরের মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন মেয়র রৌশনারা।

রৌশনারা দোলন উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের ইরতা গ্রামের প্রয়াত প্রকৌশলী রজ্জব আলীর মেয়ে। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার বড়। তার স্বামী রেজাউর রহমান জামানের বাড়ি পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায়। তালেবপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পাশ করে ১৯৭৮ সালে প্রকৌশলী বাবা রজ্জব আলীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান তিনি। সেখানে বার এ্যাট ল (ব্যারিস্টার) ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে দেশটির লেবার পার্টিতে নাম লেখান তিনি। দলটি থেকে ২০১৯ সালের ১৪ মে রামসগেট সিটির মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে একই দল থেকে কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিলেন রৌশনারা।

১৯৮৫ সালে রৌশনারা যুক্তরাজ্যের নাগরিক পিরোজপুর জেলার ভান্ডারিয়া উপজেলার রেজাউর রহমানের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। এই দম্পতির ঘরে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। বড় ছেলে রাইভি রহমান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বারেটব্যারিস্টার এট ‘ল’ সম্পন্ন করে একটি প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করছেন। ছোট ছেলে জুনাইদ রহমান। 

রৌশনারার প্রয়াত বাবা রজ্জব আলী খান বুয়েটের প্রথম ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। এলাকায় সমাজ হিতৈশী হিসেবে তার সুখ্যাতি রয়েছে। নিজের জমিতে ব্যক্তিগত টাকা খরচ করে গড়ে তুলেছেন মসজিদ-মাদরাসা ও ঈদগাহসহ বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান।

বাবার মতো রৌশনারারও সমাজ সেবা ও এলাকার মানুষের প্রতি টান রয়েছে। শত ব্যস্ততার মাঝেও প্রতিবছর যুক্তরাজ্য থেকে ছুটে আসেন নিজ গ্রামে। খোঁজ-খবর নেন আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসীর। চেষ্টা করেন মানুষের জন্য কিছু করার। নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেছেন রামস-বাংলা মহিলা উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তিনি প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ বিভিন্ন সময় অসহায়দের দান অনুদান দেন। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেন এলাকার গরিব জনগোষ্ঠীকে।

এছাড়াও দেশ ও বাংলা ভাষার প্রতি রয়েছে তার মমত্ববোধ। এবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে পৈতৃক ভিটায় পা রেখেছেন তিনি। ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথম প্রহরে সিঙ্গাইরের আরেক সূর্য সন্তান ভাষা শহীদ রফিকের বাড়িতে নির্মিত শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এদিন দুপুরে নিজ বাড়িতে আয়োজন করবেন প্রয়াত বাবা প্রকৌশলী রজ্জব আলী খানের স্মরণ সভা ও দোয়ার মাহফিল।

এদিকে রৌশনারার আগমনকে ঘিরে স্থানীয় তালেবপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে জড়ো হন হাজারো মানুষ। এদিন যুক্তরাজ্য থেকে সকাল ৮টায় ঢাকা শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন তিনি। এরপর সেখান থেকে হেলিকপ্টারযোগে সকাল ১০টায় তালেবপুর উচ্চবিদ্যালয় মাঠে পৌঁছান। এ সময় তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী। দেওয়া হয় উষ্ণ সংবর্ধনা। গ্রামবাসীর ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন রৌশনারা।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রৌশনারা বলেন, বাঙালী হিসেবে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। দেশ উন্নতির পেছনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সকলকে শিক্ষার প্রতি মনযোগী হতে হবে। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি লাভ করতে পারে না।

তালেবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভবেশচন্দ্র সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা চেয়ারম্যান মুশফিকুর রহমান খান হান্নান, ইউপি চেয়ারম্যান রমজান আলী, আওয়ামী লীগ নেতা আলী ইস্কানদার, আবু সাঈদ মোল্লা ও আবু কাউছার প্রমুখ।

এ সময় সিঙ্গাইর থানার ওসি আব্দুস সাত্তার, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সায়েদুল ইসলাম, রৌশনারার স্বজন আলীনুর রহমান জীবন ও মোতালেব হোসেনসহ স্কুল-কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলিকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা