kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

মারমা ভাষার গবেষক শৈফোচিং আর নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান   

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:৩৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মারমা ভাষার গবেষক শৈফোচিং আর নেই

শৈফোচিং মারমা

অপ্রকাশিত ‘মারমা ভাষা অভিধান’র সংকলক শৈফোচিং মারমা আর নেই। সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ৮টায় বান্দরবান সদর উপজেলার রেইচা থলিপাড়ায় নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৪ বছর।

বুধবার দুপুরে রেইচা মারমা বৌদ্ধ শ্মশানে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। 

শৈফোচিং মারমা। এক সময় বৌদ্ধ ভিক্ষুব্রত গ্রহণ করেছিলেন। সে জীবনে ধর্মীয় পড়াশোনা এগিয়েছিল বেশ ক্ষাণিকটা। কিন্তু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তেমন কিছুই ছিল না। ভিক্ষুব্রত ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পর পরই তিনি মারমা প্রবাদ প্রবচন, গান এবং ভাষা ও শব্দ নিয়ে কাজ শুরু করেন।

কিন্তু বাঙলা ভাষায় দক্ষতা না থাকায় কাজগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না। এরপরও নিভৃতে তিনি নিজ মাতৃভাষা নিয়ে কাজ করে গেছেন। ফলে তাকে সবাই একজন ভাষাবিদ বা মারমা ভাষার পন্ডিত মনে করতেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম বোর্ড (এনসিটিবি) মাতৃভাষায় পুস্তক প্রণয়নের জন্যে শৈফোচিংকে তাদের কাজের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। তিনি সে কাজেও বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

বছর ছয়েক আগে তিনি মারমা ভাষার অভিধান রচনায় হাত দেন। দুই বছরের মধ্যে এর কাজ শেষ হলেও গত চার বছরে তা প্রকাশনা পর্যায়ে যেতে পারেনি।

বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠির সাংস্কৃতিক ইন্সটিটিউট (কেএসআই) পরিচালক মং নু চিং জানান, তারা প্রস্তাবিত অভিধান প্রকাশনার জন্য শৈফোচিংকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অন্য একটি খ্যাতিমান প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকাশনার কথাবার্তা চলমান থাকায় তিনি কেএসআই’র প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। ফলে মারমা ভাষার অভিধান এখনো অপ্রকাশিত অবস্থাতেই রয়ে গেছে।

তবে এনসিটিবির বাইরেও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান মারমা ভাষায় প্রাথমিক ভাষাজ্ঞান নিয়ে যেসব প্রকাশনা করেছে- সেসব প্রকাশনা ও গ্রন্থে শৈফোচিং আন্তরিক সহায়তা দিয়ে এসেছেন। 

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের তত্ত্বাবধানে ও ইকো ডেভেলপমেন্ট কর্তৃক প্রকাশিত মারমা ভাষা অক্ষরজ্ঞান গ্রন্থ রচনায় ক্যশৈপ্রু খোকার সঙ্গে তিনিও ছিলেন যুগ্ম রচয়িতা।

গত ২০১৩ সালের ডিসেম্বর মাসে প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর বই প্রকাশিত হয়। কিন্তু নানা জটিলতায় গত ৭ বছরেও বইগুলো পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়ে উঠেনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা