kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

রিফাত হত্যা : শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

বরগুনা প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২২:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রিফাত হত্যা : শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ

বহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে দুজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে আদালত। এ ছাড়াও এ মামলার শেষ সাক্ষী ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবিরের সাক্ষী অসম্পূর্ণ অবস্থায় সন্ধ্যায় আদালত মুলতবি ঘোষণা করা হয়।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সিআইডির আইটি স্পেশালিস্ট জাকির হোসেন ইমনের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার কার্যক্রম শুরু করে আদালত। এরপর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন সিআইডির অপর আইটি স্পেশালিস্ট নাজমুল হাসান। এই দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালতে সাক্ষ্যপ্রদান শুরু করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবীর।

এ ছাড়াও এই মামলার আসামি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নির জামিন বাতিলের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির মোহাম্মদ হোসেনের দাখিল করা তদন্ত প্রতিবেদনের শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। মিন্নির আইনজীবী সময় প্রার্থনা করায় তদন্ত প্রতিবেদনের শুনানি তারিখ পিছিয়ে দেন আদালত।

সাক্ষ্যগ্রহণ উপলক্ষে আজ সকালে বরগুনার জেলা কারাগারে থাকা এ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আট আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ ছাড়াও আদালতে হাজির হন উচ্চ আদালতের আদেশে জামিনে থাকা নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, রিফাত হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও এই মামলার শেষ সাক্ষী বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ হুমায়ুন কবীর বেলা ১টার দিকে  আদালতে সাক্ষ্যপ্রদান শুরু করেন। এরপর সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত তার সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। এর পরও তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যপ্রদান শেষ না হওয়ায় তার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পূর্ণ করার জন্য  আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবিরকে আসামিপক্ষের ১০ জন আইনজীবী জেরা করবেন।

এর আগে গত ১ জানুয়ারি রিফাত হত্যা মামলার প্রাপ্তবয়স্ক ১০ আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। এরপর ৮ জানুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২৪ কার্যদিবসে এ মামলার ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করার পাশাপাশি শেষ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ চলমান রয়েছে। এছাড়া গোলাম সরোয়ার নামে একজন সাক্ষী প্রবাসে থাকায় তার সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারেনি আদালত।

এ বিষয়ে রিফাত হত্যা মামলার বাদীপক্ষের মনোনীত আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক কিসলু বলেন, ইতিমধ্যেই রিফাত হত্যা মামলার ৭৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ৭৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছে বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। মঙ্গলবার এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও শেষ সাক্ষী বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) মোঃ হুমায়ুন কবিরের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত। কিন্তু তার সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়নি। তাই বুধবার তদন্তকারী কর্মকর্তার বাকি সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, দুই সাক্ষীকে হুমকি দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপক্ষ মিন্নির জামিন বাতিলের আবেদন করেছিল গত আট জানুয়ারি। এ জন্য আদালতের নির্দেশে সাক্ষীদের হুমকি দেয়ার বিষয়টি তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। সেই তদন্ত প্রতিবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল আজ মঙ্গলবার। কিন্তু মিন্নির আইনজীবী সময় প্রার্থনা করায় মঙ্গলবার শুনানি হয়নি।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে রিফাত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর গত ১ সেপ্টেম্বর ২৪ জনকে অভিযুক্ত করে প্রাপ্ত ও অপ্রাপ্তবয়স্ক- দু’ভাগে বিভক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দেয় পুলিশ। এর মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ১০ জন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ জন। তবে মামলার চার্জশিটভুক্ত প্রাপ্তবয়স্ক আসামি মো. মুসা এখনও পলাতক। পাশাপাশি রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ছয়জন আসামি জামিনে রয়েছেন। বাকিরা কারাগারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা