kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৬ চৈত্র ১৪২৬। ৯ এপ্রিল ২০২০। ১৪ শাবান ১৪৪১

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

জাতীয়ভাবে জোহা দিবস পালনের দাবি শিক্ষকদের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাতীয়ভাবে জোহা দিবস পালনের দাবি শিক্ষকদের

ঊনসত্তরের গণঅভ্যূত্থানে পাকিস্তানি হানাদারদের গুলিতে শহীদ ড. শামসুজ্জোহার শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব কর্মসূচি থেকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক দিবসকে জাতীয়ভাবে পালনের দাবি জানানো হয়।

আজ সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবনে জোহা স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করে রসায়ন বিভাগ। ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার’ শীর্ষক স্মারক বক্তব্য দেন রাবির সাবেক উপাচার্য ও যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাাদেশের সাবেক হাইকমিশনার সাইদুর রহমান খান।

বক্তব্যের শুরুতে ৬৯’র স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ৫২’র ভাষা আন্দোলনের পর থেকেই বাংলাাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ক্রমেই উত্তপ্ত হতে থাকে। ঐতিহাসিক ছয় দফা, ছাত্রনেতা আসাদ, সার্জেন্ট জহুরুল হক হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে মিছিল বের করে রাবি শিক্ষার্থীরা। সেই মিছিলে হামলা চালাতে উদ্ধত হয় পাকিস্তানি হানাদাররা। শিক্ষার্থীদের হামলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে শহীদ হন ড. শামসুজ্জোহা। ছাত্র-শিক্ষক সম্প্রীতির প্রকৃষ্ট উদাহরণ তিনি। ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ককে তিনি স্থাপন করেছেন অনন্য উচ্চতায়। শিক্ষার্থীদের জন্য আত্মত্যাগ করে তিনি ইতিহাসের পাতায় বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।

তিনি আরো বলেন, তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে অনেক এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, বেকারত্ব দূরীকরণসহ বিভিন্ন কাজে তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। এই সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিকে সুদূরপ্রসারী ও সহজলভ্য করতে সরকারের নীতি নির্ধারকসহ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে।

বক্তৃতা অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান বলেন, জাতি হিসেবে আমাদের কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। নইলে আমরা সফল হতে পারব না। আমরা যতই আদর্শের কথা বলি না কেন যদি এই আদর্শকে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিলিয়ে দিতে না পারি তাহলে আমরা অকৃতজ্ঞ থেকে যাব।

রসায়ন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক বেলায়েত হোসেন হাওলাদারের সভাপতিত্বে আরো বক্তব্য রাখেন রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা ও অধ্যাপক চৌধুরী মো. জাকারিয়া। তাঁরা প্রত্যেকেই জোহা দিবসকে জাতীয় হিসেবে পালনের দাবি জানান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী।

এর আগে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনে জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে শহীদ জোহার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তার কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে রাবি প্রশাসনসহ বিভিন্ন বিভাগ, আবাসিক হল ও সংগঠন। দিবসটিকে জাতীয়ভাবে পালনের দাবি জানিয়ে আজ দুপুরে ক্যাম্পাসে মানববন্ধনও করেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে রাবি ছাত্র ফেডারেশনের নেতাকর্মীরা গণস্বাক্ষরের আয়োজন করে। এ ছাড়াও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নবজাগরণ ফাউন্ডেশন ও রাবি সায়েন্স ক্লাব বইমেলার আয়োজন করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা