kalerkantho

বুধবার  । ১৮ চৈত্র ১৪২৬। ১ এপ্রিল ২০২০। ৬ শাবান ১৪৪১

ফুলপুরে স্বামীর বাড়িতে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ

'আমার মানসীকে হত্যা করা হয়েছে'

যৌতুকের জন্য নির্যাতন করার অভিযোগ

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৯:১১ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



'আমার মানসীকে হত্যা করা হয়েছে'

নিহত গৃহবধূ মানসী চক্রবর্তী টুম্পা। তাঁকে হত্যা করে আক্মহত্যা বলে চালানোর অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।

ময়মনসিংহ জেলার ফুলপুর উপজেলার পৌরশহরের সাহাপারায় মানসী চক্রবর্তী (২৪) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ দুপুরে স্বামীর বাড়ির বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়। সে সাহাপারা পৌর এলাকার বিজন চক্রবর্তীর ছেলে অণুক চক্রবর্তী ওরফে ফুলের স্ত্রী। 

স্বামীর পরিবারের লোকজনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগী ছিলেন মানসী চক্রবর্তী। এ কারণে সে আত্মহত্যা করতে পারে। তবে 'মানসিক রোগী ছিলেন মানসী'- এমন অভিযোগ মানতে নারাজ এলাকাবাসী। মানসীর বাবা বাবুল কাঞ্জিলালের দাবি, মেয়ের ওপর যৌতুকের জন্য নির্যাতন চালানো হতো।

জানা যায়, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে সব সময় কলহ লেগেই থাকত। সকালে তাদের মাঝে কথাকাটাকাটি হয়। সকাল ১১টায় ওই গৃহবধূকে পাশের বাড়ির লোকজন বাসায় চলাফেরা করতে দেখেন। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ ক'জন স্থানীয় নারী ও পুরুষ জানান, মানসী চক্রবর্তী সংসার জীবনের নানা সমস্যার কথা পরিবারকে জানালেও তাঁর বাবা-মা ও পরিবারের লোকজন বিষয়টি নিয়ে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ থানার শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী এলাকার বাবুল কাঞ্জিলালের কন্যা মানসী চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন অণুক চক্রবর্তী। কোনোপ্রকার পেশা না থাকলেও একটি সংগীত প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত সে। মারা যাওয়া গৃহবধূর বাবা জানান, প্রায় দুই লাখ টাকা যৌতুক দিয়ে বিয়ে দেন তার মেয়েকে। কয়েকদিন যাবৎ আবারো যৌতুকের টাকার চাপ দিলে রাজি হননি তিনি। 

এলাকাবাসীর ধারণা, যৌতুকের জন্য অত্যাচারের যন্ত্রণা সইতে না পেরে আত্মহত্যা করতে পারে ওই গৃহবধূ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানান, প্রতিদিন বাড়িতে ননদী টুম্পা, শ্বশুর, শাশুড়ি ওই গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন করত। বিষয়টি স্বামী অণুক চক্রবর্তীকে জানালে বাবার বাড়ি থেকে টাকা না আনলে কিছুই করার নেই বলে এড়িয়ে যেত। 

টুম্পার শ্বশুরবাড়ির লোকজন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় প্রতিবাদ করতে পারেনি এলাকাবাসী। তিন দিন ধরে খাবার নেই মানসীর পেটে। পাশের একটি বাসায় গোপনে খেয়ে আসে সে। এলাকাবাসীর ধারণা, স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করতে পারে মানসী ওরফে টুম্পা। 

এদিকে, যে জায়গায় পড়ে ছিল টুম্পার নিথর দেহ, তার গলায় চিহ্ন রয়েছে। তা ছাড়া পুলিশ লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করতে পারেনি। লাশের সাথে নতুন চিকন রশি নিয়ে বাড়ছে স্থানীয়দের সন্দেহ। অনেকের ধারণা যৌতুকের জন্য হত্যার শিকার হতে পারে সে। 

জানতে চাইলে ননদ টুম্পা ও স্বামীর লোকজন জানান, তাকে হত্যা করা হয়নি। সে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। স্ত্রী মানসিক রোগী ছিলেন বলে স্বামী অনুক চক্রবর্তী জানান। লাশ নিজেরা কেন সরালেন জানতে চাইলে বাড়ির পাশের এক ছেলে দ্রতসময়ে তাকে বাঁচানোর জন্য চেষ্টা করে। তবে শেষ পর্যন্ত মানসী চক্রবর্তীর লাশ হাসপাতালে নেওয়া হয়নি।

নিহত গৃহবধূর বাবা বাবুল কাঞ্জিলাল জানান, মেয়েকে স্বামী ও তার পরিবারের লোকজন যৌতুকের জন্য বেশ কিছুদিন যাবৎ নির্যাতন করছিল। প্রভাবশালী হওয়ায় মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিচার পায়নি। আমি মেয়ে হত্যার বিচার চাই। মেয়ে 'মানসিক রোগী' ছিল কি-না জানতে চাইলে তিনি কেঁদে কেঁদে বলেন, এমন সুস্থ্ একজনকে মানসিক রোগী বলা যেতে পারে না। তিনি জানান, পরিবারের সাথে আলাপ করে মামলার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তদন্ত কর্মকর্তা ফুলপুর থানার এসআই জাহিদ জানান, লাশ ময়নাতদন্ত করার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা