kalerkantho

বুধবার  । ১৮ চৈত্র ১৪২৬। ১ এপ্রিল ২০২০। ৬ শাবান ১৪৪১

ধুনট সাব রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের মৃত আমগাছ

প্রাণহীন হয়ে সে এখন প্রাণঘাতী!

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া)   

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১০:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রাণহীন হয়ে সে এখন প্রাণঘাতী!

জন্ম হয়েছিল রাস্তার ধারে। এক সময় আদর-যত্ন, মায়া-মমতায় ভরা ছিল শিশুকাল। যেই না শিশুকাল পেরিয়ে গেলো, মায়া-মমতা সব শেষ। বাড়লো অবহেলা আর অনাদর। তবুও সবার কাছাকাছি থেকেই জীবন কাটালো সে। জীবনের পুরো সময়টুকু জন্মস্থানেই কাটিয়ে এখন ওখানেই প্রাণহীন হলো সে। এই গল্পটি কোনো মানুষের নয়, জীব-বৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী একটি শতবর্ষী আম গাছের। 

শতবর্ষী এই গাছটি কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে বগুড়ার ধুনট উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় চত্বরে। গাছটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে এখন পল্লবহীন। এটি এখন মানুষের জন্য রীতিমতো প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। গাছটি কাটার জন্য অনেক আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে ওই কার্যালয়ের দলিল লেখকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 

সরেজমিন দেখা যায়, ধুনট-সোনাহাটা পাকা সড়কের পাশেই ধুনট সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়। ওই পাকা সড়ক ঘেঁষেই প্রায় শত বছর আগে আম গাছটির জন্ম। এটার জন্মকালে সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় ছিল না। পরবর্তী সময়ে এ কার্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে। প্রয়োজনের তাগিদে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হলেও গাছটির অবস্থান এখন সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়চত্বরের অভ্যন্তরে। অফিসটির প্রধান ফটকের সামনেই ধুনট থানা ভবন। ওই আম গাছের ডাল-পালা বেড়ে থানা ভবনের প্রধান ফটক পর্যন্ত বিস্তারলাভ করেছে।  

জনগুরুত্বপূর্ণ দুই কার্যালয়ে আগত অসংখ্য মানুষকে রীতিমতো মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলে দিয়েছে প্রাণহীন গাছটি। এটি এখন কেবল কঙ্কালের মতো দাঁড়িয়ে আছে। মরা গাছটিতে ঘুণ পোকারা বাসা বেঁধেছে। আর অতিমাত্রায় পচন ধরায় গাছের শরীর থেকে বাকল খসে পড়ছে। অল্প ঝড়-বৃষ্টিতেই গাছের মরা ডালপালা ভেঙে পড়ছে। সামনে আসছে কালবৈশাখী। তাই গাছটি দ্রুত অপসারণ করা না হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি ওহিদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মরা আম গাছটি ঝুঁকিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে আছে। গাছের ডালপালা যেকোনো সময় লোকজনের ওপর ভেঙে পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই গাছটি দ্রুত অপসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। 

ধুনট সাব-সাবরেজিস্ট্রার রিপন চন্দ্র মন্ডল বলেন, সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কার্যালয়ে আগত লোকজন তাদের কাজকর্ম সম্পন্ন করছেন। এ সমস্যার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় চত্বরের মরা গাছটি অপসারণের বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। বন বিভাগের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে এ সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা