kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

চরাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে নাটুয়ারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

আবদুল জলিল, কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ)   

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৯:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চরাঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে নাটুয়ারপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিক্ষকদের সহযোগিতায় ক্ষুদে ডাক্তার, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, শিশু দিবসসহ সব জাতীয় উৎসব ও দিবস পালিত হয় বিদ্যালয়টিতে

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার ‘নাটুয়ারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ প্রাথমিক শিক্ষায় একটি মডেল হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। ধারাবাহিক ভালো ফলাফল, বিদ্যালয়ের পরিবেশ, সামাজিক কর্মসূচি পালন, বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচি নিষ্ঠার সাথে পালন, সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া উভয় ক্ষেত্রেই উপজেলার মধ্যে শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখাসহ নানা সহকার্যক্রম পরিচালনা বিদ্যালয়টিকে এক অনন্য উচ্চতায় দাঁড় করিয়েছে। গতকাল বিদ্যালয়টিতে সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে নানা তথ্য।

বিদ্যালয়টির অবস্থান কাজিপুরের যমুনাবিধৌত নাটুয়ারপাড়া চরে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার ভাঙনের কবলে পড়েছে বিদ্যালয়টি। কিন্তু ঘর ভাঙলেও মন ভাঙেনি এই বিদ্যালয়ে কর্মরত নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকমণ্ডলী এবং শিক্ষার্থীদের। চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে যেখানে সঠিক সময়ে পৌঁছে নিয়মিত ক্লাস নেয়াই দুরূহ ব্যাপার, সেখানে এই প্রতিষ্ঠানটি চরবিড়ার ব্যবধান ঘুচিয়ে সাফল্যের সোনালী শিখরে আরোহণের নিরন্তর প্রচেষ্ঠা অব্যাহত রেখেছে।

ভাঙা-গড়ার মধ্যেও বর্তমানে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসংখ্যা তিনশ’র উপরে। প্রতি বছরই এই বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার সাফল্যের সূচক ঊর্ধ্বমুখী।

গত পাঁচ বছরের পিইসি পরীক্ষায় এই বিদ্যালয় থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে। এই সময়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১৯৩ জন। এদের মধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ১২৯ জন। ট্যালেন্টপুলে ও সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিও পেয়েছে অনেকেই।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় মোট ৪২ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে শতভাগ পাসসহ জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩৮ জন ।

শিক্ষার্থীদের সফলতার সাথে সাথে এই বিদ্যালয়ের আলাদা স্বীকৃতিও রয়েছে। দুইবার এই বিদ্যালয়টি উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে। আর এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক মোনারুল ইসলাম উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন দুইবার। সর্বশেষ ২০১৯ সালে বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি আব্দুল মান্নান (বি.এস.সি) উপজেলার শ্রেষ্ঠ সভাপতির স্বীকৃতি পেয়েছেন। শিক্ষকমন্ডলী এবং পরিচালনা কমিটির মাধ্যমেএই বিদ্যালয়ে প্রতিবছর চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষা দেয়া হয়। অনন্য এই উদ্যোগটির পৃষ্ঠপোষকতা করেন সভাপতি নিজে।

পড়ার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের কিশোর-কিশোরী ক্লাবে শিক্ষার্থীরা আবৃত্তি, গান ও নাচের চর্চা করে। জাতীয় সঙ্গীত প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের প্রতিযোগীরা ৩য় স্থান লাভ করেছিল। একই বছরে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে উপজেলা পর্যায়ের রানার্সআপ হয় এই বিদ্যালয়ের ছেলে ফুটবল দল।

শিক্ষকবৃন্দের সহযোগিতায় ক্ষুদে ডাক্তার, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, শিশু দিবসসহ সকল জাতীয় উৎসব ও দিবসসমূহ এই বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়। ক্লাসের ক্লান্তি দূর করতে ফুলবাগানের পরিচর্যাসহ প্রতিবছর শিক্ষা সফর ও বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

কাজিপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার আমজাদ হোসেন বলেন, ‘‘বিদ্যালয়টি চরে অবস্থিত হলেও এখানকার শিক্ষকদের প্রচেষ্টায় ফলাফল অনেক ভালো।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোনারুল ইসলাম বলেন, “সবদিক থেকেই শিক্ষার্থীদের যোগ্য মানুষ করে তুলতে আমরা চেষ্টা করছি। আমদের এখানে শিক্ষক সংকট, খেলার মাঠ না থাকা, শ্রেণীকক্ষের অপর্যাপ্ততা রয়েছে। এসব সমস্যা নিরসনে কর্তৃপক্ষের সদয় দৃষ্টি পড়লে বিদ্যালয়ের সাফল্যের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা করি।”

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা