kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

চেয়ারম্যানের অবৈধ ফিলিং স্টেশনে সরকারি সোলার

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি    

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৯:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চেয়ারম্যানের অবৈধ ফিলিং স্টেশনে সরকারি সোলার

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সরকারি সোলার প্যানেল স্থাপন না করে নিজের মালিকানাধীন অবৈধ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে স্থাপনের অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা সঠিকভাবে তদারকি না করায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে ওই চেয়ারম্যান তার নিজের প্রতিষ্ঠানে সোলার স্থাপন করতে পেরেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ধামরাই উপজেলার ১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর ও কাবিটা) সাধারণ কর্মসূচি দ্বিতীয় পর্যায়ে সোলার প্যানেল স্থাপন খাত থেকে ৭৮টি 'স্ট্রিট সোলার প্যানেল' বরাদ্দ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। এরমধ্যে আমতা ইউনিয়নেও কয়েকটি স্ট্রিট সোলার প্যানেল বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি সোলার প্যানেলের মূল্য ৫৬ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে ৬০ হাজার টাকা।

এসব সোলার প্যানেল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় স্থানের মধ্যে রাস্তা, দাতব্য প্রতিষ্ঠান, কবরস্থান, মসজিদ, মাদ্রাসা ,মন্দির ও শশ্মানে স্থাপন করার কথা। কেউ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারবে না। তবে এর একটি নিজের মালিকানাধীন আমতা ইউনিয়নের নান্দেশ্বরীতে অবৈধ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে স্থাপন করেছেন আমতা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আবুল হোসেন।

স্থানীয়রা মনে করেন আমতা ইউনিয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ স্থান  রয়েছে যেখানে স্ট্রিট সোলার প্যানেল দরকার। কিন্তু চেয়ারম্যান ওইসব স্থানে না দিয়ে তার ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে স্থাপন করেছেন-এটি মোটেও সমীচিন নয়।

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের কাছে সরকারি সোলার প্যানেল  নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করার বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাওয়া মাত্রই তিনি সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। এরপর তিনি আর ফোন ধরেননি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাহিনুজ্জামান বলেন,সরকার থেকে বরাদ্দ দেওয়া কোনো সোলার প্যানেল  কোনো ব্যক্তি তার নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে ব্যবহার করতে পারবে না। যদি কেউ করে থাকে তবে তা নিয়ম বহির্ভূত।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ডের পূর্ব পাশে চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের 'এফ টু এফ' নামের একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। সেখান থেকে কাভার্ড ভ্যানের ভেতর গুচ্ছ সিলিন্ডারে সিএনজি নিয়ে নান্দেশ্বরীতে অবৈধভাবে মেশিন বসিয়ে গ্যাস বিক্রির কাজ পরিচালিত হচ্ছে। অবৈধ সিএনজি ফিলিং স্টেশনটিতে সরকারি সোলার প্যানেল স্থাপন করেছেন তিনি।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা