kalerkantho

শুক্রবার । ২০ চৈত্র ১৪২৬। ৩ এপ্রিল ২০২০। ৮ শাবান ১৪৪১

ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনায় ‘ম্যানুয়াল চুরি’

সিরাজদিখানে তদন্তে নেমেছে কমিটি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি    

১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৪:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনায় ‘ম্যানুয়াল চুরি’

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সারা দেশের মতো সিরাজদিখানেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক হাজিরা মেশিন (ডিজিটাল সিস্টেম হাজিরা মেশিন) কেনা হয়েছে। উপজেলার ১২৮টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনতে গিয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো নির্দেশই মানা হয়নি।

আইনবহির্ভূতভাবে ডিজিটাল মেশিনগুলো প্রায় দ্বিগুণ দামে কেনার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ না মেনে মেশিন কেনায় লুটপাটের ঘটনায় মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এরই মধ্যে এ অনিয়ম তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের আদেশে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার নিয়মে উল্লেখ আছে, স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে যাচাই করে সাশ্রয়ী দামে নিজেদের পছন্দমতো ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কিনে স্কুলে স্থাপন করবে। কিন্তু উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন সেই নির্দেশ না মেনে তাঁর পছন্দ অনুযায়ী মেশিন কেনেন। তাঁর পছন্দমতো দু-তিনজন শিক্ষক নেতাদের সহযোগিতায় উপজেলার ১২৮টি বিদ্যালয়ে সেগুলো পাঠিয়ে দেন। তিনি কোনো বিদ্যালয়ের সভাপতি বা কমিটিকে না জানিয়ে নিজেই এ কাজ করেন।

এ ব্যাপারে উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কর্তৃপক্ষ ডিজিটাল হাজিরা মেশিনের মডেল, ক্রয়মূল্য ও ফিটিং চার্জের ব্যাপারে কিছুই জানেন না। শিক্ষা কর্মকর্তা উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালগুলোর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে স্লিপের ফান্ড থেকে এ মেশিন কেনা বাবদ ১২৮টি স্কুলের প্রতিটি থেকে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কেটে নিয়েছেন। বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, এ মেশিনের বাজারমূল্য আনুষঙ্গিকসহ খরচ পড়ে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। গত মে মাসে এসব মেশিন লাগানো হলে দাম জানার পর তোলপাড় শুরু হয়। কিন্তু বায়োমেট্রিক হাজিরা সিস্টেম চালু করার সময় পার হলেও বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে এখনো কার্যক্রম চালু হয়নি। পাশের উপজেলা শ্রীনগরের বিদ্যালয়গুলোতে একই মেশিন ১৫ হাজার টাকার মধ্যেই ক্রয় দেখানো হয়েছে। 

সিরাজদিখান উপজেলার রশুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা বেগম বলেন, ‘ডিজিটাল শিক্ষক হাজিরা মেশিন কেনার ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাদের স্লিপের টাকা থেকে ৩৩ হাজার টাকা নিয়েছেন। আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ না করে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন প্রথমে ভিসতা কম্পিউটার কম্পানির মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পাঠিয়ে দেন গত বছরের মে মাসে। ওই কম্পানির প্যাডে উল্লেখ ছিল ২৫ হাজার টাকা। তবে গত সেপ্টেম্বরে আবার প্রত্যাশা কমিউনিকেশন অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম কম্পানির মাধ্যমে ৩২ হাজার ৯৪৫ টাকার বিল পাঠানো হয়। কিন্তু ডিজিটাল মেশিন কেনার আগে আমাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করেননি ওই কর্মকর্তা।’ 

আরমহল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজন ব্যানার্জি বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে আমাদের কাজ করতে হয়। তিনি আমাদের প্রধান। এই মেশিন ছাড়া এর আগে বইসহ নানা ঘটনা আছে। আমরা তো সব বলতে পারি না।’

এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘মেশিন কেনার ব্যাপারে জেলা অফিসে যান, তারা বলতে পারবে। আমার জানা মতে কয়েকটি কম্পানি দরপত্র দিয়েছে। ওখান থেকে যে কম্পানি পেয়েছে তারাই এগুলো দিচ্ছে।’ এর বেশি তিনি বলতে পারবেন না বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশফিকুন নাহার বলেন, সংসদ সদস্য মাহী বি চৌধুরীর নির্দেশে শিক্ষা কর্মকর্তার দুর্নীতির অভিযোগের বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান মঈনুল হাসান নাহিদকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা