kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

বাহুবলে সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:৪২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাহুবলে সড়ক সংস্কার কাজে অনিয়ম

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কের সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তদারকি না থাকায় ঠিকাদারের লোকজন মনগড়াভাবে কাজ করছেন। সিডিউল অনুযায়ী কম্প্রেশার মেশিন দিয়ে সড়ক পরিষ্কার করে প্রাইমকোর্ট দেওয়ার বিধান থাকলেও তা না করে গাছের পাতা ও ময়লার ওপরই চলছে কার্পেটিং এর কাজ। নিয়ম অনুসারে ময়লা ও গাছের পাতা পরিষ্কার না করে প্রাইমকোর্ট দেওয়ায় কাজের স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কের মুছাই এলাকা থেকে মিরপুর পর্যন্ত প্রায় ১২ কিলোমিটার সংস্কারের কাজ শুরু করেছে হবিগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগ। প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে এ সংস্কার কাজের শুরু থেকেই নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্দিষ্ট কোনো প্রতিনিধি এবং দায়িত্বশীল কোনো ইঞ্জিনিয়ার না থাকায় ঠিকাদারের লোকজন দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মিরপুর-শ্রীমঙ্গল সড়কের কামাইছড়া এলাকায় ঠিকাদারের লোকজন গাছের পাতা ও ময়লা আর্বজনা পরিস্কার না করে ওভারলে এর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় নিয়োজিত ঠিকাদারের প্রতিনিধি লেবার সুপারভাইজার কবির মিয়াকে এ অনিয়মের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

তিনি জানান, সওজ এর কর্মকর্তাদের কথামতেই তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় কাজের স্থলে সওজ এর কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। তবে কাজের স্থল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে অবস্থানকালে মোবাইল ফোনে নির্বাহী প্রকৌশলী সজিব আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি এর দায় সওজের উপ-সহকারী প্রকৌশলী জ্যোতিষ গোস্বামীর ওপর চাপিয়ে দেন।

তিনি জানান, তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জ্যোতিষ গোস্বামী ও শাখা কর্মকর্তারা। তাৎক্ষণিক জ্যোতিষ গোস্বামীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কাজের সাইডে আসতে অপরাগতা প্রকাশ করেন।

তবে তিনি কাজের অনিয়মের ব্যাপারে কিছুটা ত্রুটি আছে বলে স্বীকার করে জানান, বড় কোনো ত্রুটি ছাড়া সামান্য কিছু অনিয়ম থাকতেই পারে। তা তেমন কিছুই না। সংস্কার কাজে ব্যবহৃত নিম্নমানের ইরানি বিটুমিন এবং সামগ্রী ব্যবহার প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি কাজের ব্যবহৃত মিক্সিংয়ে ব্যাপক অনিয়ম ও নিম্নমানের সামগ্রীসহ পরিমাপ মতো বালি পাথর বিটুমিন ব্যবহার হচ্ছে না। প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে সিলেটের লালমাটিয়ায় মিক্সিং করে ট্রাক যোগে কাজের স্থলে নিয়ে আসা হয়। এতে নির্মাণ সামগ্রীর টেম্পার সঠিক থাকে না। প্ল্যানিং মিক্সিংয়ে সওজের প্রতিনিধি থাকার কথা থাকলেও সেখানে কাউকে রাখা হয়নি। যার কারণে ঠিকাদারের লোকজন মনগড়াভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

নিম্নমানের বিটুমিন, বালি, পাথরের মিশ্রনে সঠিক সিডিউল মাফিক কাজ না হওয়ায় চলমান সংস্কারকৃত সড়কে এবড়ো থেবড়ো ও গুড়ামাটি হয়ে থাকায় যানবাহন চলাচলের সময় চাকার প্রেশারে প্রায় জায়গাই কাপের্টটিং উঠে যাচ্ছে। ময়লা আবর্জনার ওপর দিয়ে কার্পেটিং করায় সড়কের স্থায়িত্ব এবং কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা