kalerkantho

রবিবার । ২২ চৈত্র ১৪২৬। ৫ এপ্রিল ২০২০। ১০ শাবান ১৪৪১

আন্দোলনকারীদের ‘লাঞ্ছিত’ করে উপাচার্যকে সভায় নেওয়ার অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ২১:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্দোলনকারীদের ‘লাঞ্ছিত’ করে উপাচার্যকে সভায় নেওয়ার অভিযোগ

উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ‘লাঞ্ছিত’ করে উপাচার্য ফারজানা ইসলামকে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একাংশ। আজ রবিবার বেলা ১১ টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সিনেট হলের সামনে এ ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গতকাল শনিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের সভাপতিত্বে অ্যাকাডেমিক সভা প্রতিরোধের ঘোষণা দিয়েছিল উপাচার্য অপসারণের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’।

আজ সকাল সাড়ে দশটা থেকে পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি হিসেবে পুরনো প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন তাঁরা। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থী জানান, বেলা ১১টার দিকে উপাচার্য ফারজানা ইসলামসহ উপাচার্যপন্থী কয়েকজন শিক্ষক অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় অংশগ্রহণের জন্য সেখানে গেলে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা তাঁদের বাঁধা দেন। এ সময় উপাচার্যপন্থী শিক্ষক এবং আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হতে থাকে। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের ‘জোর করে’ ‘পদদলিত করে’ ‘লাঞ্ছিত’ করে উপাচার্যকে নিয়ে সিনেট হলে ঢোকেন উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা। 

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হক, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাহাথির মোহাম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক সুদিপ্ত দে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অ্যাকাডেমিক সভায় অধ্যাপকরা প্রবেশ করতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। তাঁদের দাবি ছিল, শিক্ষকরা প্রবেশ করতে পারবেন তবে উপাচার্য প্রবেশ করতে পারবেন না। তখন শিক্ষকরা বলেছেন, তাঁরা উপাচার্যকে নিয়েই প্রবেশ করবেন। এক পর্যায়ে একসাথে প্রায় ৭০-৮০ জন শিক্ষক উপাচার্যকে নিয়েই সিনেট হলে ঢোকেন। তবে কোনো ধরনের ধাক্কাধাক্কি সেখানে হয়নি।’

এদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেন আন্দোলকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি সড়ক ও অনুষদ ভবন ঘুরে মুরাদ চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ হয়।

সমাবেশে ছাত্র ইউনিয়নের বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, ‘উপাচার্যসহ উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা আমাদেরকে পদদলিত করে অ্যাকাডেমিক সভায় অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া একজন শিক্ষক আমাদের এক আন্দোলনকারীর গলা চেপে ধরেন। এর আগে গত ৫ নভেম্বর আমরা দেখেছি একই কায়দায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গায়ের জোরে নয় বরং যুক্তি দিয়ে কথা বলবেন বলে দেশের সব মহল প্রত্যাশা করে। এ ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। ধিক্কার জানাই ওই সকল শিক্ষকদের।’

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার পরিষদের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আরমানুল ইসলাম খান বলেন, ‘উপাচার্যপন্থী শিক্ষকরা ন্যাক্কারজনকভাবে শিক্ষার্থীদের পায়ে মাড়িয়ে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলে প্রবেশ করেন। আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে দুর্নীতিবাজ উপাচার্য অপসারণের দাবিতে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করার আহ্বান জানাই।’

উল্লেখ্য, আন্দোলনকারি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে উপাচার্যের বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি ও গত বছরের ৫ নভেম্বর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় উপাচার্যের প্রত্যক্ষ মদদ ছিল। এ রকম একজন উপাচার্যের সভাপতিত্বে অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভা তাঁরা মেনে নেবেন না। এছাড়া উপাচার্যের পরিবর্তে যেকোনো একজন উপ-উপাচার্যের সভাপতিত্বের দাবি তোলে আন্দোলনকারীদের সংগঠন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা