kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

অন্যরকম ভালোবাসা ওমর ও জসিমের

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৮:১৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অন্যরকম ভালোবাসা ওমর ও জসিমের

ভালোবাসা দিবসকে ঘিরে প্রিয়জনকে উপহার, তাদেরকে সারপ্রাইজড করার জন্যই এ প্রজন্মের অধিকাংশ তরুণ-তরুণীদের ব্যস্ততা থাকে সারাদিন। এই দিনটিকে ঘিরে থাকে কত পরিকল্পনা কত আয়োজন আর প্রস্তুতি। কেউ প্রিয়জনদের নিয়ে ঘুরে বেরানো, উপহার বিনিময়, বাবা-মাকে নিয়ে ভাল খাবার খাওয়ার পাশাপাশি নানা আয়োজনকে ঘিরেই ভালোবাসা দিবসের কার্যক্রম থাকে। তবে ব্যতিক্রম ভাবে ভালোবাসা দিবস পালন করলেন ময়মনসিংহের ত্রিশালে কলেজ পড়ুয়া দুই তরুণ। নিজের অর্জিত অর্থ দিয়ে রাস্তার ফুটপাতে থাকা অনাহারি ভিক্ষুকদের এক বেলা খাবার তুলে দেন। ত্রিশাল উপজেলার অর্ধ-শতাধিক ভিক্ষুককে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়ে ভালবাসা দিবসে অন্যরকম এক ভালবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ত্রিশালের কলেজে পড়ুয়া ওমর ও জসিম।

ওমর ত্রিশাল উপজেলার বইলর ইউনিয়নের সালামের দোকান এলাকার ফজলুল হকের ছেলে। সে ত্রিশাল নজরুল কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে অধ্যায়নরত। পৌর শহরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী জসিম তার ছোট বেলার বন্ধু। ফেব্রুয়ারী মাসের শুরুতে তারা পরিকল্পনা করেন, এবারের ভালোবাসা দিবস অন্যরকম ভাবে পালন করবেন। এই ভালবাসা দিবসে নিজেদের সাধ্যানুযায়ী অসহায় দরিদ্র মানুষের জন্য কিছু একটা উপহার দিবেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী তালিকা করেন পৌর শহরের যারা ভিক্ষা করেন। নিজের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে ছিন্নমূল এসব হতদরিদ্রদের এক বেলা খাওয়ানোর পরিকল্পনা করেন। সেই পরিকল্পপনা অনুযায়ী ভালবাসা দিবসে ভিক্ষুকদের নির্ধারিত স্থান ত্রিশাল বাজারের সুতিয়া ব্রিজের পাড়ে এক প্যাকেট বিরিয়ানী আর এক গুচ্ছ লাল গোলাপ উপহার দেন ভিক্ষুকদের। এ সময় ভাল খাবার খেতে পেরে অনেকে আবেগআব্লুত হতে দেখা যায়। তৃপ্তি সহকারে খেয়ে অনেকে সৃষ্টিকর্তার কাছে হাত তুলে দোয়াও করতে থাকেন এই তরুণদের জন্য।

ভিক্ষুক কমলা বেগম বলেন, তার দুই সন্তান তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিছে। সারাদিন ভিক্ষা করে অন্যের বারান্দায় রাতে ঘুমান। খেয়ে না খেয়ে দিন কেটে যায় তার। এরমধ্যে এক বেলা ভাল খাবার পেয়ে অতীতের দিনের কথা মনে পরে যায়। ২০ বছর স্বামী হারা হওয়ার পর এক বেলা ভাল খাবার জোটেনি। আজকে একটু ভাল খাবার পেয়ে আত্মতৃপ্তি নিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।

খাবারের সময় কথা হয় ব্যতিক্রমী ভালবাসার গল্পের উদ্যোাক্তা ওমর ফারুকের সাথে। তিনি বলেন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জুয়েল ভাইয়ের সাথে ভালবাসা দিবসের নানান আলোচনার প্রাক্কালে তিনি বলেন আমাদের ভালোবাসা দিবসে নিজেরা অসহায় দরিদ্রদের সাথে ভালবাসাগুলো ভাগাভাগি করে নিতে পারাটাই সত্যিকারের ভালোবাসা দিবসের স্বার্থকতা। সেই কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে কিছু একটা করার চিন্তা করি এবারের ভালোবাসা দিবসে। এ সময় আমার বন্ধু জসিমের চিন্তায় আমরা ১৪ ফেব্রুয়ারী অনাহারি অসহায় দরিদ্র যারা এক বেলা ভাল করে খেতে পারে না সেকল ভিক্ষুকদের সাথে ভালোবাসা দিবস পালন করি। আমরা পৌর শহরের ৫৩ জন ভিক্ষুককে ভিক্ষা করতে দেখি। সেই অনুযায়ী সবাইকে একটি লাল গোলাপ দিয়ে ভালোবাসা জানিয়ে এক প্যাকেট বিরানী খাইয়ে দেয়। আমরা চেষ্টা করব প্রতিবারই যেন অসহায় ছিন্নমূল মানুষদের নিয়ে যেন ভালোবাসা ভাগাভাগি করতে পারি। আমরা নিজেরাই নিজেদের অর্জিত অর্থ দিয়ে সামান্য এই আয়োজনটি করেছি। বিনিময়ে তাদের সত্যিকারের ভালোবাসা পেয়েছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা