kalerkantho

শনিবার । ২১ চৈত্র ১৪২৬। ৪ এপ্রিল ২০২০। ৯ শাবান ১৪৪১

পীরগাছায় সুজন হত্যা রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০৮:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পীরগাছায় সুজন হত্যা রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪

গ্রেপ্তারকৃত চার আসামি

রংপুরের পীরগাছায় মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে রাজমিস্ত্রি সুজন হত্যার নয় দিন পর রহস্য উদঘাটন করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে পরকীয়া প্রেমিকা নিলুফা আক্তার নিশাসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে নিশা আদালতের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে তাদেরকে জেলহাজতে পাঠানো হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের রেজাউল করিমের স্ত্রী নিলুফা আক্তার নিশা (২৪), আব্দুল জলিলের স্ত্রী নাসিমা আক্তার (৪৫), ছেলে নাজমুল হক (৩৫) ও একাই এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে নুরুল হক (৩৭)।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের প্রতাব জয়সেন গ্রামের (ডারার পাড়) ইদ্রিস আলীর ছেলে সুজনের নাম্বারে গত ২৫ জানুয়ারি রাত ১০টার দিকে অজ্ঞাত একটি নাম্বার থেকে ফোন আসে। ওই সময় ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায় সুজন। এরপর থেকে সে আর বাড়িতে ফিরে আসেনি।

গত ২৯ জানুয়ারি দুপুরে বাড়ির পাশের একটি ফাঁকা মাঠে সুজনের মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয় পরিবারের লোকজন। পরে পুলিশ দুপুর ২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ‘মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে নিশা বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।’

থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের সাতদরগা (ডারার পাড়) গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে সুজন মিয়ার সঙ্গে তিন বছর পূর্বে রেজাউল করিমের স্ত্রী নিলুফা আক্তার নিশির পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তার পর থেকেই নিয়মিত মোবাইলে কথা হতো তাদের মধ্যে। সুজন গভীর রাতে নিশির সঙ্গে দেখা করতে বাড়িতে যাতায়াত করতেন। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক ছিল। নিশির স্বামী ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে রেজাউল করিম তার স্ত্রীকে ঢাকায় নিয়ে যায়। গত ৬ জানুয়ারি নিশি ঢাকা থেকে বাড়িতে আসে। এরপর সুজন বেশ কয়েক দিন নিশির সঙ্গে গভীর রাতে দেখা করে। বিষয়টি বুঝতে পেয়ে হাতেনাতে ধরার পরিকল্পনা করে নিশির শশুর আব্দুল জলিল। ঘটনার দিন ২৫ জানুয়ারি রাত ২.৩২ মিনিটে সুজনের নাম্বারে কল করে নিশি দেখা করতে বলে। সুজন রাতেই নিশির সঙ্গে দেখা করতে যায়। ভোরের দিকে বাড়ির পাশে খড়ের গাদার মধ্যে দুই জনকে আপত্তিকর অবস্থায় ধরে ফেলে নিশির শশুর আব্দুল জলিল, শাশুড়ি নাসিমা আক্তার ও ভাসুর নাজমুল হক।

নিশিকে মারধর করে তার ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সুজনকে অন্য একটি ঘরে আটকে রাখা হয়। সকালে নিশি সুজনের বিষয়ে জানতে চাইলে তাকে জোরপূর্বক বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

নিশির শশুর তার বাবা নুরুল হককে ডেকে নিয়ে আসে। নিশির বাবা ও শশুর দূর সম্পর্কের ভাই। পরে তারা সকলে মিলে সুজনকে পিটিয়ে হত্যা করে সুজনদের বাড়ির পাশে একটি মাঠে ঝাউ জঙ্গল দিয়ে ঢেকে রাখে। ২৯ জানুয়ারি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুজনের লাশ উদ্ধার করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা