kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

হাত পেতে নয়, হালাল উপার্জন করেই চলতে চান মশিয়ার

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি   

২৯ জানুয়ারি, ২০২০ ০১:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



হাত পেতে নয়, হালাল উপার্জন করেই চলতে চান মশিয়ার

মানুষের কাছ হাত পেতে নয়, হালাল উপার্জন করেই চলতে চান জীবনের শেষ কটা দিন। মাত্র ৩০ হাজার টাকা হলে মশিয়ারের জন্য তৈরি হবে স্বপ্নের একটি মোটরগাড়ি। দুটি পা থেকেও নেই এমন এক প্রতিবন্ধী যুবক মশিয়ার সরদার।

মশিয়ারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার দুটি পা কেটে বাদ দেওয়া হয়েছে ২০ বছর আগে। জন্মের পর থেকেই তার গলাই একটি টিউমার আছে। গ্যাংগ্রিন হওয়ায় দুটা পা কাটতে হয় একই সঙ্গে। এখন সে কিছুটা সুস্থ হলেও তার জীবনে রয়েছে আরো কষ্টদায়ক যা তাকে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে জীবনকে বিচলিত করে। 

মশিয়ার সরদার বেনাপোল পোর্ট থানার উত্তর কাগজপুকুর গ্রামের রুস্তম সরদারের ছেলে। 
মশিয়ার জানায়, দুই হাজার সালে বন্যার পরে তার এক পায়ে গ্যাংগ্রীন হয়। ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে অন্য পায়ে। তখন মশিয়ার দিনমজুরি খাটলেও তার সংসারে ছিল মা-বাবা, ভাই-বোন, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েসহ অসংখ্য মায়া মমতা আর ভালোবাসা। ডাক্তার সাহেব তার পায়ের গ্যাংগ্রীনের জন্য দুটি পা কেটে বাদ দেওয়ার জন্য বলেন আর তখন থেকেই তার জীবনের সেই কঠিন মুহূর্তের আগমন ঘটে।

পা কাটার জন্য দিন তারিখ ঠিক হয়। পা কাটতে যাওয়ার আগের দিন মশিয়ারের স্ত্রী স্বামীর অসহায়ত্বের কথা ভেবে দুটি সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসে স্বামীকে ফেলে। একদিকে নিজের দুই পা হারাতে হবে অন্যদিকে স্ত্রীর চলে যাওয়া মানষিকভাবে মেরে ফেলে তাকে। পা কেটে শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী মশিয়ার। পঙ্গুত্ব বরণ করে অন্যের কাছে হাত পেতে সাহায্য নিয়ে আহার যোগাতে হয় তার। কিন্তু তার এই হাত পেতে ভিক্ষা নিয়ে আহার করা দিনে দিনে বিরক্তিকর হওয়ায় মনে আশা জাগে মোটরভ্যান চালানোর। ছোট ছোট পা নিয়ে চলাচল খুবই কষ্টদায়ক। এভাবে চলতে চলতে এক সময় দেখা হয় শার্শা উপজেলার কৃতি সন্তান দেশ সেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমানের সঙ্গে। মনের ভেতর জমে থাকা কষ্ট আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান উদ্ভাবক মিজানের কাছে।

মিজানুর রহমান জানান, সে আমাকে বলে একটি মোটরগাড়ি হলে আর লোকের কাছে হাত পাততে হবে না। সে জন্য একটি গাড়ি বানাতে ৬০ হাজার টাকা লাগবে। আমি ব্যক্তিগতভাবে তার জন্য ৩০ হাজার টাকা ম্যানেজ করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি টাকার সহযোগিতা করতে সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে আবেদন জানিয়েছেন। আর সবাই এগিয়ে আসলে তার শেষ জীবনের আশা আকাঙ্খা পূরণ হবে। কেউ সহযোগিতা করতে চাইলে এই বিকাশ নম্বরে  (০১৭১৮৮৪৮৩৭৭-পার্সোনাল) যোগাযোগ করতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা