kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

ধর্মপাশা উপজেলার মাটিকাটা-মইষাখলা সড়কের বেহালদশা

মেরামতের অভাবে হাঁটাই দায়

হাফিজুর রহমান চয়ন, হাওরাঞ্চল   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ২০:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মেরামতের অভাবে হাঁটাই দায়

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মাটিকাটা-মইষাখলা সড়কের প্রায় ২ কিলোমিটার স্থান দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের অভাবে এভাবেই ভেঙে জন-দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। ছবি- কালের কণ্ঠ

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার মাটিকাটা-মইষাখলা সড়কের সেলবরষ কবরস্থান বাজার হইতে মাটিকাটা পুরাতন জামে মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার স্থান দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে তা ভেঙে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

এলজিইডির অধীনে থাকা এ সড়কটি দিয়ে উপজেলার সেলবরষ  ইউনিয়নের ৬টি গ্রামের স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শত-শত শিক্ষার্থীসহ কয়েক হাজার লোককেই যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা এলজিইডি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সেলবরষ ইউনিয়নের মাটিকাটা গ্রাম হইতে মইষাখলা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কটি দিয়ে ওই ইউনিয়নের মাটিকাটা, নতুনবাড়ি, মাইজবাড়ি, নগরহাটি, সেলবরষ ও মইষাখলা এই ৬টি গ্রামের কয়েক হাজার লোক যাতায়াত করে থাকে। এরই লক্ষে জন-গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি ১৯৯৮ সালে উপজেলা এলজিইডির অধীনে পাকা করণের কাজ করা হয়। এরপর ২০১২ সালে পূনরায় ওই সড়কটি মেরামত করা হয়। কিন্তু এরপর দীর্ঘ আট বছর যাবৎ এ সড়কটির কোনো ধরনের মেরামত কাজ না করায় সড়কের মাটিকাটা গ্রামের পুরাতন জামে মসজিদ হইতে সেলবরষ কবরস্থান পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গা জুড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়ে তা এখন জন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। 

উপজেলার মাটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা ও বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোজাহিদ আহম্মেদ, এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র হৃদয় আহম্মেদ, একই গ্রামের বাসিন্দা ও বাদশাগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র অমিত হাসান ও বাদশাগঞ্জ পাবলিক বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী পুণ্যি আক্তার জানান, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামতের অভাবে যানবাহন চলাচল করবে দূরের কথা, এটি দিয়ে পায়ে হেঁটে চলাই এখন দায়।

তারা আরো জানান, ভাঙা এ সড়ক দিয়ে পায়ে হেঁটে স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় যাওয়া-আসার সময় প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো শিক্ষার্থী হোঁচট খেয়ে পায়ে ব্যথা নিয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হয়। এ যেন দেখার কেউ নেই।

মাটিকাটা গ্রামের কৃষক মোস্তাহাদ মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দেশে নির্বাচন আইলেই প্রার্থীরা বড় গলায় কইয়্যা যাইন যে, পাস করলে রাস্তাটারে নতুন কইর‌্যা পাক্কা (পাকা) কইরা দিবেন। কিন্তু পাস করার পরে আর কেউই খবরই লয়না।

একই গ্রামের কৃষক পাখি মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমাদের চলাচলের এই সড়কটি এভাবে ভেঙে পড়ে থাকায় এটি দিয়ে আমাদের ছেলে-মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে যাওয়া-আসাসহ হাওর থেকে ধান-পাট, গরু-বাছুর আনা-নেওয়ায় আমাদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তাই এ সড়কটি দ্রুত মেরামত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

উপজেলার সেলবরষ ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন বলেন, সড়কটি নিয়ে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের হলেও কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। এটি মেরামতের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) একাধিকবার আবেদন করেও কোনো লাভ হয়নি।

ধর্মপাশা উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. আরিফ উল্লা বলেন, সড়কটি মেরামতের জন্য হেড অফিসে চাহিদা পাঠিয়েছি। বরাদ্দ এলেই ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা