kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বাড়ি থেকে ধরে এনে ইউএনও অফিসে আদালত বসিয়ে সাজা

চুনারুঘাটের ইউএনও, ওসি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শোকজ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৮ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:০২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুনারুঘাটের ইউএনও, ওসি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শোকজ

মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানে বাড়ি থেকে ধরে এনে ইউএনও অফিসে আদালত বসিয়ে সাজা দেওয়ার কারণে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং থানার ওসিকে কারণ দর্শানোর আদেশ প্রদান করেছে আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুলতান উদ্দিন প্রধান এই আদেশ দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার আদালতের স্টেনো টাইপিস্ট আল আমিন মঙ্গলবার বিষয়টি দৃষ্টিগোচর করেন যে, হবিগঞ্জের স্থানীয় দুই দৈনিকে 'চুনারুঘাটে ৩ মাদকসেবী আটক, কারাদণ্ড প্রদান' এবং ‘চুনারুঘাটে বিপুল পরিমাণ মাদকসহ ৩ ব্যবসায়ী আটক’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে।

বিজ্ঞ বিচারক রিপোর্টগুলো পড়ে বিষয়টি আমলে নিয়ে এক আদেশে বলেন, সংবাদে দেখা যায় সোমবার দুপুরে মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের একটি দল চুনারুঘাট এলাকার বিভিন্ন গ্রামে অভিযান চালিয়ে চুনারুঘাট উপজেলার গোগাউড়া গ্রামের আব্দুল মন্নাফের পুত্র সোহেল মিয়া ওরফে রনিকে (১৫) ৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট রাখার অভিযোগে, নুর মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র মাসুক মিয়া ওরফে মাসুম মিয়াকে (১৮ ইয়াবা সেবনের অভিযোগে এবং কাটাগিলা গ্রামের আন্দার উল্লার পুত্র আজিজুল হককে (২৭) ৫ পিস ইয়াবা রাখার অভিযোগে আটক করা হয়।

কিন্তু মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ২৯(১) ধারায় বর্ণিত আছে ‘মহাপরিচালক অথবা তাহার নিকট হতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো অফিসার অথবা কোনো পুলিশ অফিসার ব্যাতিত অন্য কোনো অফিসার কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করিলে অথবা কোনো বস্তু আটক করিলে তিনি অনতিবিলম্ভে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে অথবা আটককৃত বস্তুটিকে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার অথবা ভারপ্রাপ্ত অফিসার হিসাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির নিকট প্রেরণ করিবে।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, চুনারুঘাট থানার ওসি ও চুনারুঘাট উপজেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়কে কেন এই বিষয়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগকে অবহিত করা হইবে না মর্মে নোটিশ প্রাপ্তির ৩ দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে আদালত নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। বিষয়টি চুনারুঘাট আদালতের বিবিধ মামলা নম্বর ১ হিসাবে রেকর্ড করা হয়েছে এবং পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ফেব্রুয়ারি।

 হবিগঞ্জের আদালত পরিদর্শক আল আমিন জানান, মঙ্গলবারই শোকজের কাগজ সংশ্লিষ্টদের নামে প্রেরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

চুনারুঘাট উপজেরার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক নজিব আলী জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই।

চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক জানান, সেদিন যে অভিযান ছিল তাতে আমার কোনো পুলিশ ছিল না এবং আমার কাছে কেউ ফোর্স চায়নি। ফলে বিষয়টি আমার জানা নেই। এই বিষয়ে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আদালতের শোকজ পেলে আমি আমার এই জবাব আদালতকেও জানাব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা