kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

'তুই মেয়ে হয়ে জন্মেছিস বলে?'

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)প্রতিনিধি   

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:০৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'তুই মেয়ে হয়ে জন্মেছিস বলে?'

শুক্রবার রাতে বাস থেকে নামলেন এক নারী। কোলে ফুটফুটে নবজাতক। রাস্তার পাশে বসে ভিক্ষা করছিলেন এক নারী। টয়লেটে যাবার কথা বলে নবজাতককে ভিক্ষুকের কোলে দিয়ে চলে যান সেই নারী। এরপর ঘটনা পরিক্রমায় কন্যা শিশুটির আশ্রয় হয়েছে হাসপাতালে। তবে মেলেনি বাবা-মায়ের পরিচয়। 'পরিত্যক্ত' এ নবজাতক নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তোলপাড় আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জ ভৈরবের। সেখানে কর্মরত সহকারি কমিশনার (ভূমি) হীমাদ্রী খীশা রবিবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। মর্মস্পর্শী এ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে ফের আলোচনার রসদ পেয়েছে ঘটনাটি।
নবজাতক নিয়ে এসিল্যান্ড হীমাদ্রী খীশা ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন- “নিষ্ঠুর মা নাকি তোকে রেখে পালিয়ে গেছে। তুই মেয়ে হয়ে জন্মেছিস বলে?  নাকি তোর নিষ্ঠুর পিতা চায়নি তুই পৃথিবীতে আসবি। আশ্চর্য! তোকে নাকি এখনো কেউ একবারও কাঁদতে দেখেনি। তুই ঠিক বুঝে গেছিস এখন আর তাদের জন্য কেঁদে কি হবে, যাদের একটুও বুক কাঁপেনি তোকে শীতের মধ্যে রাস্তায় রেখে যেতে। ভালো থাকিস। হয়তো তোর জন্য অজানা সুন্দর ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে।”  
নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে রবিবার সকাল দশটার দিকে নবজাতকের একটি  ছবির সাথে ক্যাপসন হিসেবে স্ট্যাটাসটি তিনি আপলোড করেন।  স্ট্যাটাসে অনেক মানুষ নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। যার বেশিরভাগই মর্মস্পর্শী।

নবজাতক ফেলে যাওয়ার আলোচিত এ ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার। শিশুটিকে পাওয়া  ভিক্ষুক মহিলা দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা শেষে শিশুটিকে পাশের এক ঔষধের দোকানে নিয়ে যান। দোকানি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করালে দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়। শিশুটির স্থান হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করেন চিকিৎসকরা। বর্তমানে তিনজন নার্সের সার্বিক পরিচর্যায় তিনদিন বয়সী শিশুটি সুস্থ আছে।
ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. বুলবুল আহমেদ বলেন,  'শুক্রবার রাত থেকেই শিশুটির সুস্থতার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে।'

নবজাতক মেয়েটির জন্য নতুন জামা-কাপড় কিনে হাসপাতালে গিয়েছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা। তিনি বলেন, 'শিশুটির দায়িত্ব নিতে অন্তত ৮/১০জন আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু আমরা শিশুটিকে সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে আদালতে প্রেরণ করবো। আদালতের সিদ্ধান্তেই শিশুটির ঠিকানা নিশ্চিত হবে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা