kalerkantho

রবিবার । ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩ ফাল্গুন ১৪২৬। ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪১

হলহলিয়া দুর্গে মিলেছে আবাসিক ভবন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:০৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হলহলিয়া দুর্গে মিলেছে আবাসিক ভবন

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে হলহলিয়ায় দুর্গে প্রত্নতাত্ত্বিক খননে পাওয়া গেছে প্রাচীন সভ্যতার আবাসিক ভবনের ধ্বংসাবশেষ। রাজবাড়ি দুর্গের ভেতরে একাধিক সুসজ্জিত কক্ষের সন্ধান মিলেছে। দুর্গের প্রবেশপথে একটি অনন্য আবাসিক ভবনেরও অস্তিত্ব পেয়েছে খনন দলটি। তাছাড়া খননকালে মাটির বিভিন্ন স্তরে পোড়ামাটির তৈরি বিভিন্ন ধরনের প্রত্নবস্তু পাওয়া যাচ্ছে।

সূত্র জানায়, হলহলিয়ায় দুর্গ গত বছর প্রত্নসম্পদ ঘোষিত হওয়ার পর গত ৭ জানুয়ারি নিরবিচ্ছিন্ন খননের উদ্যোগ নেওয়া হয় সরকারিভাবে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে খননের উদ্যোগ নেয় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর। ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর প্রথম দফা খননের পর অধিকতর খনন ও অনুসন্ধানের সুপারিশ ছিল। ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় হলহলিয়া দুর্গ ও রাজবাড়িকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা করে। এরপরই গত ৭ জানুয়ারি অনুসন্ধান ও খনন শুরু করে অধিদপ্তর। খনন ও অনুসন্ধানে প্রতিদিনই প্রত্নবস্তু বেরিয়ে আসছে বলে খননকারীরা জানান।
খনন কাজ ও অনুসন্ধান চলছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. মো. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে। তিনি বলেন, 'প্রথমে আমরা খননকাজ শুরু করার পর থেমে গিয়েছিলাম। কারণ এটি প্রত্মসম্পদ হিসেবে স্বীকৃত ও সংরক্ষিত হয়নি। আমাদের প্রাথমিক খননে প্রাচীন সভ্যতা ও ইতিহাসের নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন পাই। এগুলো উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করার পর মন্ত্রণালয় প্রত্নসম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই এখন থেকে অধিকতর খনন ও অনুসন্ধানের দীর্ঘমেয়াদী কাজ চলবে। আমরা খনন করতে গিয়ে প্রাচীন আবাসিক সুসজ্জিত কক্ষের নমুনা পেয়েছি। প্রবেশ পথে পেয়েছি পোড়ামাটির মূল্যবান প্রত্নসম্পদ।'
খনন ও অনুসন্ধান দলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করছেন ফিল্ড অফিসার মো: শাহীন আলম। খনন দলের সদস্যরা হলেন- ময়নামতি জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান (অতি.দা.), মো: হাফিজুর রহমান, আঞ্চলিক দপ্তরের গবেষণা সহকারী মো. ওমর ফারুক, সিনিয়র ড্রাফটসম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম, আলোকচিত্রী মো. নূরুজ্জামান মিয়া, সার্ভেয়ার চাইথোয়াই মারমা, পটারী রের্কডার ওমর ফারুক ও অফিস সহায়ক লক্ষণ দাস।
খনন সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারিভাবে তালিকাভুক্ত হওয়ায় এখানে সঠিকভাবে নিরবচ্ছিন্ন গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলে এখানকার প্রাচীন পটভূমি জানার সুযোগ হবে। এতে প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাসও উন্মোচিত হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা