kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪১

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

শিশুদের মাঝে আনন্দ বিলিয়ে শেষ হলো পাখি মেলা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:১৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শিশুদের মাঝে আনন্দ বিলিয়ে শেষ হলো পাখি মেলা

ঢাকার উত্তরা থেকে মা-বাবার সঙ্গে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখি মেলা দেখতে এসেছিলেন পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী তাহমিনা তাসনিম। বাবার কোলে বসে উল্লাস আর আনন্দে আত্মহারা তাসনিম বলছিলেন, ‘বাবা আমি আজকে বাসায় যাবো না। এখানেই থাকবো। পাখি দেখবো, আমাদের বাসায় পাখি নেই।’

দুই সন্তানকে নিয়ে পাখি মেলা দেখতে এসেছিলেন একটি বেসরকারি স্কুলের প্রধান শাহনাজ বেগম। কালের কণ্ঠকে বলছিলেন, ‘শহুরে কোলাহল আর প্রতিদিনের ব্যস্ততার ফাঁকে একটুখানি প্রশান্তি, মুক্ত বাতাস সেই সঙ্গে অতিথি পাখি অসাধারণ অভিজ্ঞতা। সব সময়ই ব্যস্ত থাকি বাচ্চাদের নিয়ে সেভাবে কোথাও যাওয়া হয় না। এখানে এসে খুবই ভালো লাগছে। বাচ্চারা খুবই খুশি। প্রকৃতির এতো কাছে ওদের নিয়ে আসতে পেরে আমারো ভালো লাগছে। পাখি মেলায় এর আগে কখনো আসা হয়নি এবারই প্রথম তাই আসলে আনন্দটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।’

ছেলে-মেয়েসহ সস্ত্রীক পাখি মেলা দেখতে এসেছিলেন আতিউর রহমান। বলছিলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সব সময়ই আমাকে বিমোহিত করে। আমি এর আগে বেশ কয়েকবার পাখি মেলায় এসেছি। প্রতিবারই চেষ্টা করি পুরো পরিবারকে নিয়ে আসতে। একসঙ্গে এতো পাখি দেখে বাচ্চারাও আনন্দিত। সেই সঙ্গে স্বল্প পরিসরে হলেও পাখি পরিচিতি হচ্ছে ওদের, প্রকৃতিকে জানতে পারছে। প্রকৃতি সংরক্ষণে সচেতন হচ্ছে।’

এরকম হাজারো শিশু কিশোর আর দর্শনার্থীদের পদচারণায় শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) মুখরিত ছিল পুরো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ‘পাখি মেলা-২০২০’ উপলক্ষে ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থী। দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল অতিথি পাখি আর লাল শাপলাতে ভরপুর প্রতিটি লেক ও জলাশয়।

শুক্রবার সকাল ১১টায় ‘পাখ-পাখালি দেশের রত্ন, আসুন করি সবাই যত্ন’ স্লোগানে বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সামনে ‘পাখিমেলা-২০২০’ এর উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক। উদ্বোধনী ভাষণে উপাচার্য বলেন, পাখি জনজীবনের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পাখির অভয়ারণ্য নিরাপদ রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এজন্য পাখিবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে অনেক জলাশয় লিজমুক্ত রাখা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পাখির বসবাস উপযোগী পরিবেশ অক্ষুণ্ন আছে বলেই প্রতি বছর শীত মৌসুমে দূর-দূরান্ত থেকে পরিব্রাজক পাখি নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাসে ছুটে আসে।

উপাচার্য আরো বলেন, পাখি মেলায় এসে বাচ্চারা আনন্দ পায় এবং নানা প্রজাতির পাখির সঙ্গে পরিচিত হবার সুযোগ পায়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে দর্শকগণ পাখিপ্রেমী হয়ে ওঠেন। অনেক প্রজাতির পাখি নানা কারণে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই বিলুপ্তপ্রায় পাখির প্রজাতি রক্ষার্থে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। আগে গ্রাম বা নগরে অনেক জলাশয় ও বন ছিল। সেখানে পাখি আসতো। সেই পাখির ডাকে ঘুম ভাঙত সকলের। বেপরোয়া ও অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং বৃক্ষ নিধনের ফলে সবুজ প্রকৃতি ও পাখ-পাখালির বসবাসের পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। সেই বিষয়ে এখনই সকলকে সচেতন হতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজ, অধ্যাপক ড. মো. মফিজুল কবির, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সোহায়েল, পাখি বিশেষজ্ঞ ড. ইনাম আল হক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবু, আইসিইউএন বাংলাদেশ প্রতিনিধি রাকিবুল আমিন প্রমুখ।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাখিমেলার আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান।

দিনব্যাপী পাখিমেলায় অন্যান্য আয়োজনের মধ্যে ছিল, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি দেখা প্রতিযোগিতা, পাখি বিষয়ক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, শিশু কিশোরদের জন্য পাখির ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, টেলিস্কোপ ও বাইনোকুলার দিয়ে শিশু-কিশোরদের পাখি পর্যবেক্ষণ, পাখির আলোকচিত্র ও পত্র পত্রিকা প্রদর্শনী, পাখি বিষয়ক আলোচনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পাখি চেনা প্রতিযোগিতা (অডিও ও ভিডিও এর মাধ্যমে) ও পাখি বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা এবং সব শেষে পুরস্কার বিতরণী পর্ব।

পাখি দেখা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেবপ্রিয় বিশ্বাস, সুলতান আহমেদ, আশিকুর রহমান, তাহসিনা সানিয়াত এবং দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিমূল নাথ, দুর্জয় রাহা অন্তু, আনিতা শাহরিয়ার ও সজীব বিশ্বাস।

এছাড়া বিগত এক বছরে গণমাধ্যমে পাখি ও জীববৈচিত্র সম্পর্কিত প্রকাশিত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার তিন জন সংবাদকর্মীকে ‘কনজারভেশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড’ এবং বিগত এক বছরে বাংলাদেশের পাখির ওপর সায়েন্টিফিক জার্নাল, প্রকাশিত প্রবন্ধ পর্যালোচনা করে একজনকে ‘সায়েন্টিফিক পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা