kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১৬:৪৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

একবছর আগের শ্লীলতাহানির অভিযোগ তুলে বাগেরহাটের শরণখোলার রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন এক স্কুলছাত্রীর মা। হাইস্কুলটির প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান আহমেদ গাজী ও সহকারী শিক্ষক মো. শাহিনুজ্জামান শাহিনের নামে এই মামলা করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শরণখোলা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি দায়ের করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহকারী শিক্ষক শাহিনুজ্জামান শাহিন গত বছরের ৩ মার্চ কারিগরি শাখার এক ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেন। এবিষয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করা হলে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি। এরপর গত ১৮ জানুয়ারি বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য ওই ছাত্রী তার নাম অন্তর্ভুক্ত করতে স্কুলে গেলে শিক্ষক শাহিনুজ্জামান নাম না নিয়ে তাকে স্কুল থেকে চলে যেতে বলেন। এই অপমানে সে স্কুল থেকে বের হয়ে কীটনাশক পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

অসুস্থ ওই ছাত্রীকে তখন শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে সে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।
মামলার বাদী ও ছাত্রীর মা জানান, এঘটনায় তার মেয়ে ও পরিবারের মান-সম্মান নষ্ট হয়েছে। শেষপর্যন্ত কোনো উপায় না পেয়ে মামলা করতে বাধ্য হয়েছেন তিনি।

রায়েন্দা সরকারি পাইলট হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. সুলতান আহমেদ গাজী বলেন, এসব বিষয়ে ওই ছাত্রী আমার কাছে কখনো কোনো অভিযোগ করেনি। তার অসুস্থতার খবর শুনে আমি সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে দেখতে যাই। সেখানে গিয়ে আমার কাছে অভিযোগ করোনি কেনো? জানতে চাইলে মেয়েটি বলে, স্যার আপনার কাছে ভয়ে বলিনি।

প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, আমার স্কুলে প্রায় দেড় হাজার স্টুডেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি হচ্ছে মেয়ে স্টুডেন্ট। এদের মধ্যে থেকে কেউই এই ধরনের অভিযোগ কোনো শিক্ষকের বিরুদ্ধে করতে পারবে না। এমন হলে এতো মেয়ে এখানে ভর্তি হতো না। তিনি বলেন, স্কুলটি সবেমাত্র জাতীয়করণ হয়েছে। এরই মধ্যে অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হাতে নিয়েছি। সেই মুহূর্তে এমন অভিযোগ ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, এজাহার পাওয়া মাত্রই মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। এই ব্যাপারে তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা