kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

আজমিরীগঞ্জে নদীর পাশে ইউপি চেয়ারম্যানের ইটভাটা

সরকারী টাকায় লাইট, ডিপ টিউবওয়েল এবং ইটভাটার রাস্তা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১৩:৩৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আজমিরীগঞ্জে নদীর পাশে ইউপি চেয়ারম্যানের ইটভাটা

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়র পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক ভূইয়া নিয়ম বহির্ভূতভাবে ভেড়ামোহনা নদীর পাশে গড়ে তুলেছেন ইটভাটা। এম. বি. বি নামের এই ইটভাটায় কৃষি জমির মাটি ব্যবহার করা হয়। ইটভাটায় সরকারী বরাদ্দে দুটি ডিপ টিউবওয়েল এবং চারটি স্ট্রিট লাইট বসানো হয়েছে। জেলা পরিষদ ও এলজিএসপি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা খরচ করে তৈরি করা হয়েছে রাস্তা। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে এই ইটভাটাকে বেআইনী বললেও ক্ষমতার দাফনে সকলের সামনেই চলছে এই ইটভাটা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাকাইলছেও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল হক ভূইয়া ভেড়ামোহনা নদীর পাশে কাকাইলছেও মৌজায় ১০/১২ বছর পূর্বে ইটভাটা স্থাপন করেন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আইন অনুযায়ী ইটভাটা স্থাপনের জন্য কেবল অকৃষি জমি ব্যবহার করা যাবে। ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইন ১৯৮৯ এর ৯(৫) অনুযায়ী কোনো ইটভাটাকে লাইসেন্স পেতে হলে আবাসিক বা বনজ বাগানের তিন কিলোমিটার দূরে ইটভাটা করতে হবে। নদীর পাড়ে কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। কিন্তু এর কোনোটিই মানেননি নুরুল হক ভূইয়া। তিনি জোরপূর্বক ভূমিহীনদের নামে বরাদ্দকৃত খাস জমি থেকেও মাটি আনেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই ইটভাটার পাশেই তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি কলেজ, একটি মাদ্রাসা, একটি খাদ্য গুদাম, ইউনিয়ন পরিষদ অফিস, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মসজিদ, শশ্মান,কবরস্থান ও বাজার অবস্থিত।

সম্প্রতি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বাছির আহমেদ ভূইয়া এক প্রতিবেদনে এই ইটভাটার জন্য সেখানকার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন। প্রতিবেদনে এটি বেআইনী বলেও উল্লেখ করা হয়। সহকারী কমিশনার ভূমি গত ৪ ডিসেম্বর তার প্রদত্ত প্রতিবেদনেও এই ইটভাটা নদীর তীরে এবং কৃষি জমির মাটি ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক এলাকাবাসী জানান, নুরুল হক ভূইয়া অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ মুখ খুলে প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। তিনি সরকারী টাকায় ইটভাটার জন্য দুটি ডিপ টিউবওয়েল, চারটি সোলার স্ট্রিট লাইট ব্যবহার করছেন। আর সরকারি টাকায় প্রায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা ব্যয়ে তার ইটভাটায় যাওয়ার জন্য রাস্তা করছেন। নদীর পাশে এবং জনবহুল এলাকায় এই ইটভাটায় ইট পোড়ানোর ফলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। লোকজন শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। গাছে ফল আসছে না। কৃষি জমিতে উৎপাদন কমে গেছে। ইটভাটায় মাটি এবং ইট পরিবহনের কারনে রাস্তাঘাটের ব্যাপক ক্ষতি সাধন হচ্ছে।

এ ব্যাপারে কাকাইলছেও ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আজিজুর রহমান জানান, এই ইটভাটার কারনে এলাকার পরিবেশ মারাত্বকভাবে দূষণ হচ্ছে। চেয়ারম্যান সাহেব সরকারি টাকায় ২টি ডিপটিউবওয়েল, ৪টি স্ট্রিট লাইট বসিয়েছেন। জেলা পরিষদ থেকে ১ লাখ টাকা এবং এলজিএসপি প্রকল্পের মাধ্যমে আরও ৬ লাখ টাকা খরচ করে তার ইটভাটার রাস্তা করেছেন। অথচ সাধারন জনগণ এগুলো থেকে বঞ্চিত। এসিল্যান্ড এবং তহিশীলদারের প্রতিবেদনে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি উল্লেখ করলেও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহস্যজনক কারনে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন না। এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে কাকাইলছেও ইউনিয়ের চেয়ারম্যান নুরুল হক ভূইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে এমনিতেই এই অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। রাস্তাঘাট ও উন্নয়ন করা হচ্ছে এখানে স্কুল কলেজ আছে বলে। আরও উন্নয়ন করবেন বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খন্দকার এর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা