kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বাগাতিপাড়ায় খাদ্যগুদামে অনিয়ম

কৃষকরা বাদ, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্নমানের ধান নিচ্ছেন কর্মকর্তারা!

►অনিয়মের সত্যতা পেলেন ইউএনও ►৪ কর্মচারির বদলি, মূল অপরাধীরা এখনো অধরা

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১২:৩১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষকরা বাদ, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নিম্নমানের ধান নিচ্ছেন কর্মকর্তারা!

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় সরকারি খাদ্যগুদামে কৃষকদের কাছ থেকে ধান না নিয়ে মধ্যস্বত্বভোগী ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ধান নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এমন অনিয়মের সত্যতা পেয়ে গত মঙ্গলবার গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে চাবি বুঝে নেন ইউএনও। তার এক দিন পর বৃহস্পতিবার চার কর্মচারীকে অন্যত্র বদিলি করলেও অনিয়মের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা এখনো অধরা। 

জানা যায়, সরকারের নির্ধারিত মূল্যে কৃষকরা যেন ভালো মুনাফায় গুদামে ধান দিতে পারেন সেই লক্ষ্যে বাগাতিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দেবী পাল ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রকৃত কৃষকদের সাক্ষাৎকার গ্রহণের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করেন। প্রতিকেজি আমন ধান ২৬ টাকা মূল্যে বাগাতিপাড়া উপজেলায় ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫০৪ মেট্রিকটন। সেই ধান কৃষকরা গোডাউনে দিতে আসলে ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষার নামে হয়রানি করা হচ্ছে বলে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন কৃষকরা। অথচ প্রভাবশালী মহলের আশীর্বাদপুষ্ট ও খাদ্য বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে কৃষকদের কৃষিকার্ড কিনে নিয়ে ব্যবসায়ীদের ট্রলিবোঝাই নিম্নমানের ধান নেয়া হচ্ছে আর্দ্রতা পরীক্ষা ছাড়াই। সরেজমিনে সেই ব্যাবসায়ীদের দৌরাত্ম্য উপজেলা খাদ্যগুদামে ঢুকলে চোখে পড়ে।  

এমন অনিয়মের খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দেবী পাল সরেজমিনে খাদ্যগুদামে গিয়ে ক্রয়কৃত ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষা করালে অনিয়মের সত্যতা মেলে। এছাড়া ওই দিন দুজনের নামে ১৮৫ বস্তা ধান ক্রয় দেখালেও প্রকৃত কৃষকের কার্ড দেখাতে পারেননি উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা। এমন পরিস্থিতিতে ওই দিন গোডাউনে তালা ঝুলিয়ে চাবি বুঝে নেন ইউএনও। এর একদিন পর বৃহস্প্রতিবার ৩ জন প্রহরী ও একজন সহকারী উপ খাদ্যপরিদর্শককে অন্যত্র বদলি করে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু সাধারণ কৃষকের দাবি, খাদ্যগুদামে প্রহরীরা নন বরং ব্যবসায়ীদের সাথে কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশ রয়েছে। তারাই কৃষকদের সাথে এমন প্রতারণা করছেন। তদন্ত করে অনিয়মের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান কৃষকরা।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রেজাউল করিম কর্মচারীদের বদলির কথা নিশ্চিত করলেও হঠাৎ কেন তাদের বদলি করা হলো তা স্পষ্ট করে বলেননি। এছাড়া ইউএনও’র খাদ্যগুদাম পরিদর্শনের ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না বলে মন্তব্য করেন।

উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, ইউএনও স্যারের নির্দেশে কৃষক ছাড়া কারো ধান নিচ্ছেন না তিনি। ধানের আর্দ্রতা আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে মাপছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকারি নীতিমালার মেনেই তিনি ধান নিচ্ছেন। তবে আধুনিক যন্ত্র দ্বারা তিনি ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষা করেন না। তিনি তার অভিজ্ঞতা থেকে ধানের আর্দ্রতা পরীক্ষা করেন। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াংকা দেবী পাল বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে খাদ্যগুদামে তিনি গিয়েছিলেন এবং অভিযোগের কিছু সত্যতাও তিনি পেয়েছেন। তবে স্বচ্ছভাবে যেন প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হয় সে ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষা থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা