kalerkantho

মঙ্গলবার । ৫ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১

বিদ্যালয় প্রাঙ্গন ভাড়াই দিয়ে দিলেন প্রধানশিক্ষক!

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি   

২৪ জানুয়ারি, ২০২০ ১১:১০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিদ্যালয় প্রাঙ্গন ভাড়াই দিয়ে দিলেন প্রধানশিক্ষক!

উন্নয়নের নামে অতিরিক্ত ফি আদায় ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগের পর এবারে রেস্টুরেন্টের নামে বিদ্যালয় প্রাঙ্গন ভাড়া দিয়ে পকেট ভারি করার অভিযোগ উঠেছে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে অভিভাবকসহ সচেতন মহলে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে প্রধানশিক্ষক মফিজুল হক অভিযোগ সত্য নয় দাবি করে বলেন, স্কুল প্রাঙ্গনে আর যেন ছাতা বসানো না হয় তা রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

জানা যায়, ১৯০৭ সালে শহরের প্রাণকেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত হয় পীরগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়। অসংখ্য গুণী ব্যক্তি এ বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে সমাজের বিভিন্ন স্তরে কৃতিত্বের অবদান রেখে চলছেন। ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যালয়ে ২০১০ সালে প্রধানশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেন বর্তমান প্রধানশিক্ষক মফিজুল হক। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের নামে কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। 

এছাড়াও বিদ্যালয়ের উন্নয়নের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা অতিরিক্ত ফি আদায় করার অভিযোগ আছে। তাছাড়া সরকারি বই বিক্রি, মূল পাকা রাস্তা সংলগ্ন বিদ্যালয়ের মার্কেট ও নতুন দ্বিতীল ভবন নির্মাণে অর্থ নয়ছয় করাসহ ব্যাপক অনিয়মেরও অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে কয়েক বছর আগে পত্র-পত্রিকায় বিস্তর লেখালেখিও হয়। মন্ত্রণালয় থেকে গঠন করা হয় তদন্তটিমও। কিন্তু এক প্রভাবশালীর সহায়তায় বিষয়গুলো তখন ধামাচাপা দেন ওই প্রধানশিক্ষক। 

সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার ফরম পূরণেও অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়। বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিলে তাদের কাছ ক্ষমা চেয়ে শেষবারের মতো নিজেকে রক্ষা  করেন ওই প্রধানশিক্ষক। সম্প্রতি বিদ্যালয়ের মূল ফটক সংলগ্ন মার্কেটের একটি ঘর শহরের কয়েকজন তরুণের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়। তারা প্রধানশিক্ষককে হাত করে ঘরটি বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের দিকে সম্প্রসারিত করে সেদিকে দরজা কেটে 'রিওনা কিচেন/ক্যান্টিন' নামে রেস্টুরেন্টের ব্যবসা খুলে বসেছেন। অত্যন্ত জাঁকজমক ও বর্ণিল আলোকসজ্জিত ওই রেস্টুরেন্টে ফাস্টফুডসহ বিভিন্ন দামি দামি খামার পরিবেশন করা হচ্ছে। বিকালে রেস্টুরেন্টের পিছনের দরজা খুলে দিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বেশ কয়েকটি বড় বড় রঙিন ছাতা তুলে দিয়ে টেবিল চেয়ার সাজিয়ে খাবার বিক্রি করছে রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ। সেখানে চটপটি ও ফুচকার দোকানও বসে। এখানে খাবার খেতে এবং সময় কাটাতে দূর দূরান্ত থেকে সাইকেল, মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কার নিয়ে এসে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ। বিকেল হলেই যেন মেলায় পরিণত হয় স্কুলপ্রাঙ্গন। সন্ধ্যায় রঙিন ছাতার নিচে কপোত-কপোতিরা বসে আড্ডাও দেন। 

যেকোনো মানুষ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনের এমন অবস্থা দেখে একে পার্ক বলে মনে করবেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ছাতা বসিয়ে ব্যবসা করতে দিতে বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক বাড়তি আর্থিক সুবিধা নেন। এ নিয়ে বেশ ক্ষুদ্ধ অভিভাবকসহ সচেতন মহল। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ভেলাতৈড়ের দেলোয়ার, কামরুজ্জামান, জগথার মুক্তা, বিরহলী তবারক আলীসহ বেশ কয়েকজন জানান, প্রধানশিক্ষক মফিজুল হক নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই খেয়াল-খুশি মতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি এরর চেয়ে এক থেকে দেড় হাজার টাকা করে বেশি আদায় করছেন। আদায় করা টাকা বিভিন্ন ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে খরচ দেখিয়ে নিজের পকেট ভারি করছেন তিনি। শূন্য থেকে উঠে এসে এরইমধ্যে শান্তিবাগে ৪ তলা আলিশান বাড়িও করেছেন। এখন আবার স্কুল বাউন্ডারি ভাড়া দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করছেন। সন্ধ্যায় স্কুল ক্যাম্পাসে গেলে মনে হয়, এটা কোনো মেলা বা পার্ক। তাদের অভিযোগ, ওই ফাস্টফুডের দোকানের জিনিসপত্রের এতো দাম যে সেখানে স্কুলের ছেলে মেয়েরা গিয়ে খাবার কিনে খেতে পারে না। অবিলম্বে এটা বন্ধ হওয়া দরকার বলে মনে করেন তারা। 

এ বিষয়ে প্রধানশিক্ষক মফিজুল হক বলেন, মন্ত্রণালয় তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পায়নি। পকেট ভারি করার অভিযোগও সঠিক নয়। তাছাড়া এরই মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব মাঠে ছাতা বসানোর বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। তাই বিদ্যালয় বাউন্ডারিতে আর ছাতা না বসানোর জন্য রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। তারপরও বসানো হচ্ছে কেন- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা