kalerkantho

সোমবার । ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ ফাল্গুন ১৪২৬। ২২ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রেলসেতুর মুখে নাশকতার চেষ্টা!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, রংপুর   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ১৫:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেলসেতুর মুখে নাশকতার চেষ্টা!

রংপুরে বদরগঞ্জে গভীর রাতে ট্রেন লাইনচ্যুত করতে রেলসেতুর মুখে পিলার দিয়ে নাশকতার চেষ্টা চালানো হয়। ঘনকুয়াশার মধ্যে একদল দুর্বৃত্ত রেলসেতুর কাছে রেললাইনের দুটি মাইলেজ পিলার উপড়ে পার্বতীপুর-রংপুর রেললাইনের মাঝে বদরগঞ্জ এলাকায় নাশকতার চেষ্টা চালায়। এতে ট্রেন দুর্ঘটনায় পড়লে দশ হাত দুরত্বে যমুনেশ্বরীর নদীর ওপর রেলসেতু ভেঙে পড়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে একজন পথচারির টর্চলাইটের আলোয় ঘটনাটি ধরা পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে রেললাইনের মাঝ থেকে পিলার দুটি সরিয়ে নেওয়া হয়। 

ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে বদরগঞ্জ রেললাইনের পাকেরমাথা রেলসেতু সংলগ্ন এলাকায়। ধারণা করা হচ্ছে প্রশাসনকে বেকায়দায় ফেলতে কে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। রাতেই উদ্ধার করা হয় পিলার দুটি। 

এলাকাবাসী ও রেলওয়ে সুত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে রেললাইনের পাশে স্থাপন করা দুটি মাইলেজ পিলার উপড়ে ফেলে একদল দুর্বৃত্ত। সিমেন্টের তৈরি পিলারগুলোর একেকটির ওজন ছিল প্রায় দেড়’শ কেজি। দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে পার্বতীপুর-রংপুর রেললাইনের বদরগঞ্জ উপজেলার পাকেরমাথা রেলসেতুর কাছে দুই লাইনের ওপর একেকটি পিলার রেখে দেয়। এতে পার্বতীপুর ও রংপুর থেকে ছেড়ে আসা যেকোন ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে বড় ধরণের দুর্ঘটনায় পতিত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। কিন্তু ওই সময় রেললাইন ধরে পায়ে হেটে যাওয়ার সময় লাইনের ওপর বিশাল আকৃতির পর পর দুটি সিমেন্টের পিলার (খুটি) দেখতে পান আব্দুর রাজ্জাক নামে এক পথচারী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে হেটে গিয়ে খবর দেন স্টেশন মাস্টার আব্দুল মাজেদকে। তিনি দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় লোকজন নিয়ে লাইনের ওপর থেকে পিলার দুটি সরিয়ে নেওয়া হয়। 

পথচারী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রতিদিনের কাজ শেষে রাতে প্রায় সময় রেললাইন ধরে আমি হেটে বাড়িতে যাই। ঘটনার সময় রেললাইনের ওপর দুটি পিলার দেখতে পেয়ে ভয়ে আৎকে উঠি। এর কিছুক্ষণ পর দেখি অন্ধকারের মধ্যে একটু দুরে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি মোটরসাইকেলে থাকা কয়েকজন চলে যাচ্ছে। ট্রেন লাইনচ্যুত হলে ব্রিজ ভেঙে নদীতে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল।

স্টেশন মাস্টার আব্দুল মাজেদ বলেন, বড় ধরণের নাশকতা করতে কে বা কারা লাইনের ওপর দুটি পিলার দিয়ে রাখে। ট্রেনলাইনচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এতে পার্বতীপুর থেকে কুড়িগ্রামের রমনা বাজারগামী ৪২২ ডাউন ট্রেনের শতশত যাত্রী অন্তত এক’শ ফুট গভীরে পড়ে যেত। কিন্তু একজন পথচারী বিষয়টি দেখলে মহাবিপদ থেকে রক্ষা হয়। 

এ ব্যাপারে রেলওয়ের লালমনিরহাট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় বদরগঞ্জ থানা পুলিশকেও জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

বদরগঞ্জ থানার ওসি হাবিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, অল্পের জন্য ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে। যারা এ নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনাকারি তাদের সনাক্ত করতে তথ্যানুসন্ধান চালানো হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা