kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

নামের মিলে কারাগারে শ্রীপুরের রফিকুল

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

২২ জানুয়ারি, ২০২০ ০০:১৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



নামের মিলে কারাগারে শ্রীপুরের রফিকুল

ঘটনার শিকার চা দোকানি রফিকুল

বনবিভাগের একটি মামলায় আসামি করাতকলের মালিক রফিকুল ইসলাম। কিন্তু পুলিশ পরোয়ানা তামিলে গ্রেপ্তার করেছে চায়ের দোকানি রফিকুল ইসলামকে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামির নামের সঙ্গেই শুধু নয় বাবার নামেও মিল রয়েছে। দ্রুত এ ভুল সংশোধনের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিমখণ্ড গ্রামে।

সূত্র জানায়,গ্রেপ্তারের পর জেলে থাকা রফিকুল ইসলাম (৪৩) পশ্চিমখণ্ড গ্রামের মসজিদ মোড় এলাকার নূর মোহাম্মদের ছেলে। তিনি পাঁচ বছর ধরে চায়ের দোকান চালান। স্থানীয়ভাবে নির্বিবাদ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বনবিভাগের মামলায় যে আসামিকে খোঁজা হচ্ছিল সেই রফিকুল ইসলামের (৪০) বাড়ি একই গ্রামের বেগুনবাড়ি এলাকায়। তার পিতার নামো নূর মোহাম্মদ। এই রফিকুল একটি করাতকলের মালিক। ২০১৫ সালের ৮ জুলাই শ্রীপুর সদর বনবিট কর্মকর্তা সহিদুর রহমান যে মামলা করেছিলেন তার আসামি করাতকল মালিক রফিকুল। মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।

জেলে থাকা রফিকুল ইসলামের স্ত্রী শিমু আক্তার জানান, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার নিজের চায়ের দোকানে কাজ করছিলেন রফিকুল। বিকেলে শ্রীপুর থানার এএসআই কফিল উদ্দিন ও তোফায়েল সেখানে যান। তারা দোকানে বসে চা পানের পর জানতে চান রফিকুলের পিতার নাম। এরপর নামের মিল পেয়েই পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। তার নামে মামলা নেই জানালেও মানতে চায়নি পুলিশ।

বড় ভাই নজরুল ইসলাম বলেন,'আমাদের বাড়ির ১০ কিলোমিটারের মধ্যে সংরক্ষিত কোনো বন নেই। তাই বনবিভাগের মামলায় আসামি হওয়া অস্বাভাবিক। আমার নিরীহ ভাইকে ধরে নিয়ে গেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকালে তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করলে রফিকুলকে জেল খাটতে হতো না।'

এদিকে বনবিভাগের মামলার প্রকৃত আসামি রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলাটিতে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়েছিলেন। বর্তমান গ্রেপ্তারী পরোয়ানার বিষয়ে তার জানা নেই।

শ্রীপুর থানার এএসআই কফিল উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, ‘ব্যক্তির নাম ও বাবার নাম দুটোরই মিল থাকায় আমরা ভুল আসামি গ্রেপ্তার করে ফেলেছি। আসামি গ্রেপ্তারের সময় পরিচয় নিশ্চিত হয়েছি বাবার নাম দেখে। তখন তার বিষয়ে কেউ কোনো তথ্য দেননি। এখন শুনছি ভুল আসামি গ্রেপ্তার করেছি।’

গাজীপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শামসুন্নাহার বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা