kalerkantho

সোমবার । ১১ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪১

৫০ টাকার গোখাদ্য ১১০ টাকা, খড়ের ট্রাকে ফেনসিডিল!

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ২৩:০৩ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



৫০ টাকার গোখাদ্য ১১০ টাকা, খড়ের ট্রাকে ফেনসিডিল!

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লক্ষ গরুর খামারিরা পড়েছেন বেকায়দায়, সাড়ে তিন লক্ষ গরুর খাদ্য সংকট ও গরু খামারে লোকসানের চরম আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ধানের কাড়ির দাম বেড়েছে আড়াই গুন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রতিদিন বিশেষ করে ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি জেলায় যাচ্ছে খড় ভর্তি ট্রাক।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে রোপা আমন ধান মাড়াই শেষ হয়েছে দেড় মাস আগে। এক বিঘা জমিতে ধান হয় প্রায় ১৬/১৭ মণ। আর (২৫ আটি এক তড়পা) কাড়ি (গোখাদ্য বিচালি/খড়) হয় প্রায় ৬০ তড়পা। ধান মাড়াইয়ের পর কাড়ি পরিবহনে সমস্যা ও বেশি খরচ পড়ে যাবার কারণে ৬০ তড়পা কাড়ি গৃহস্থ বাড়ি না এনে বিক্রি করে দেন প্রতি তড়পা ২০ টাকা করে ১ হাজার ২০০ টাকায়। ধানের এলাকা থেকে পাইকারি দামে কিনে ১৫-২০ দিন আগেও খুচরা বিক্রি হতো ৪০-৪৫ টাকা তড়পা করে। ১০ দিন আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা।

এভাবে মাত্র ক'দিনে লবণ সিন্ডিকেটের মতো রাতারাতি স্টক করা ও দাম বাড়া শুরু হলে এখন দাঁড়িয়েছে ১০০-১১০ টাকা তড়পা। গত বছর একই সময়ে ছিল সর্বোচ্চ ৪৫ টাকা। দুই বছর আগেও বর্তমান বাজারের পরিস্থিতি হয়েছিল বলে জানান, বাজারে খুচরা কাড়ি বিক্রেতারা। রাতা রাতি স্টক করা ও দাম বেড়ে যাওয়ায় গরু খামারিরা পড়েছেন চরম দুঃচিন্তায়। দাম বাড়ার কারণ দেশের বিভিন্ন জেলায় দেদারসে ট্রাকে করে যাচ্ছে কাড়ি। গতবার এর সিঁকি পরিমাণও যাইনি। 

তাহলে অন্য জেলায় চাহিদা তেমন না বাড়লেও কেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দেদারসে কাড়ি যাচ্ছে এমন বিষয়ে বেশির ভাগ মানুষের ধারণা ও নাম প্রকাশ না করা শর্তে অনেকেই জানান, কাড়ি ভর্তি ট্রাক চেকিং হয় না এবং সন্দেহ থাকে না তাই কাড়ি ভর্তি ট্রাকে ফেনসিডিল নিয়ে যাবার কারণে কাড়ি‘র চাহিদা বেড়েছে, বেড়েছে দামও। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে কোনো জেলাতেই এমন দামে কাড়ি বিক্রি হয় না এখনো। কাড়ির দামের চেয়ে ট্রাকের ভাড়া বেশি দিয়েও কম দামে বা কেনা দামে কাড়ি বিক্রি হলেও কেন যাচ্ছে কাড়ি তাই আইন-শৃংখলা বাহিনীর দৃষ্টি দেওয়া উচিত বলে মনে করেন গরু খামারী ও সাধারণ মানুষ।

অনেকেই জানান, ধানের দাম কম পাবার কারণে ইরি ধান আবাদ কম হবে, সেক্ষেত্রে কাড়ি সংকট থাকবে এবং চাহিদাও থাকবে, তাই অনেকেই এমন আশঙ্কায় স্টক করায় দাম বেড়ে গেছে অস্বাভাবিক হারে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল, গোমস্তাপুর, নওগাঁর নিয়ামতপুর, সাপাহার ও পোড়সাসহ কয়েকটি এলাকা থেকে কাড়ি ট্রাকে করে ঢাকা ও বিভিন্ন জেলায় রেকর্ড পরিমাণে যাচ্ছে বলে জানান, অনেক গৃহস্থ ও কাড়ি ব্যবসায়ী। বিভিন্ন আশঙ্কায় অনেকেই স্টক করাসহ সংকটের শঙ্কা ও চাহিদার কারণে দাম বাড়ার কারণ হতে পারে বলে মনে করেন অনেকেই। কাড়ি বাহিত ট্রাক ও গাড়ি আইন-শৃংখলা বাহিনীর চেকিং ও ধরাপড়ার ঝুঁকি কম থাকায় কৌশল পাল্টে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে ফাঁকি দিয়ে খড়ের ট্রাকে পাঠানো হচ্ছে ফেনসিডিল বলে মনে করেন অনেকেই। 

মঙ্গলবার শিবগঞ্জ পৌরসভা পশু হাটে গরু বিক্রেতাদের অনেকেই জানান দুই তিন মাস পরে বাড়িতে পালা আমাদের গরুগুলি বিক্রি করতাম, কিন্তু কাড়ির দাম প্রায় আড়াই গুন বেড়ে যাওয়ায় গরু পালতে অনেক খরচ বেড়ে যাবে ,তাই খরচ ও লোকসানের ভয়ে গরু বিক্রি করতে হাটে এনেছি, অনেকেই বলেন এমন কারণের কারনে হাটে গরু বিক্রেতা বেড়ে গেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ মঞ্জুরুল হুদা জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জেলায় ৫২ হাজার ৯৭৮ হেক্টর জমিতে এবার স্বর্ণা, ব্রিধান ৫১, ৭১, ৭৫, ৮৭, সম্পা ও চিনি আতবসহ অন্যান্য রোপা আমন ধান আবাদ হয়, ধান উৎপাদন হয় ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ৭৯০ টন মেট্রিক টন। এ হিসেবে রোপা আমন ধান আবাদকৃত প্রায় চার লক্ষ বিঘা জমির দুই কোটি ৩৮ লক্ষ (বিঘায় ৬০ তড়পা হিসেবে হেক্টরে ৪৫০ তড়পা) তড়পা গোখাদ্য হিসেবে খড় হবার কথা, যা জেলায় পালিত গোখাদ্যের জন্য যথেষ্ট।

জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গরুর সংখ্যা (মোটাতাজাকরণ সংখ্যাসহ গাভী, বাছুর, বকনা) বর্তমানে প্রায় খামারির সংখ্যা প্রায় ৩৫৫ জন গরুর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজার, আর দেশি গরু দুই লক্ষ ৬৪ হাজার, শংকর জাত গরুর সংখ্যা প্রায় ৬৬ হাজার ও মহিষের সংখ্যা প্রায় ৫ হাজার সহ ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার।

অন্য জেলায় অন্যবারের চেয়ে অনেক বেশি কাড়ি ভর্তি ট্রাক যাওয়া এবং সেসব ট্রাকে ফেনসিডিল থাকার সন্দেহ ও পুলিশের চেকিং করা বিষয়ে পুলিশ সুপার চাঁপাইনবাবগঞ্জ এ এইচ এম আবদুর রকিব বিপিএম পিপিএম (বার) মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানান, খড় ভর্তি ট্রাকে ফেনসিডিল বোঝাই করার কথা দুই-একজনের কাছ থেকে শুনেছি, বিশ্বাসযোগ্য না হলেও নজরদারীতে রয়েছে বিষয়টি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা