kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

সেই অধ্যক্ষের কাণ্ড!

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:৫৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সেই অধ্যক্ষের কাণ্ড!

কুড়িগ্রামে উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের লেলিয়ে দেওয়া বহিরাগত ব্যক্তিদের হাতে লাঞ্চিত হয়েছেন তারই কলেজে কর্মরত এক শিক্ষক। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নির্দেশে লাঞ্চিত করার অডিও ফাঁস হওয়ায় বিক্ষুব্ধ ওই কলেজের ৯ শিক্ষক বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অধ্যক্ষের নির্দেশ প্রদানের ৫ মিনিট ২ সেকেন্ডের অডিও রেকর্ড ফাঁস হওয়ার পর শিক্ষকদের মাঝে তোলপাড় শুরু হয়।

অডিও রেকর্ডের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর ওই কলেজের এইচএসসি বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রের ফরম পূরণে জটিলতা সৃষ্টি হয়। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তাহের ওই ছাত্রের ফরম পূরণের জটিলতা সৃষ্টির জন্য ওই কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আসাদুল হাবিব আরিফ দায়ী বলে ছাত্রের অভিভাবককে জানান।

অধ্যক্ষ তার উদ্দেশ্য হাসিল করার সুযোগে ফরম পূরণের বিষয়টি হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন। অধ্যক্ষ ওই ছাত্রের পিতাকে মোবাইল ফোনে কলেজের সহকারী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার ও প্রভাষক আরিফকে দুই গালে চড়-থাপ্পর, এমনকি চুল ধরে টানাটানি করে অপদস্ত করার নির্দেশ দেন। লাঞ্চিত করলে ফরম পূরণের বিষয়টি দেখবেন বলেও অভিভাবককে আশ্বস্থ করেন তিনি।

এরই প্রেক্ষিতে ওই অভিভাবক গত ১৪ জানুয়ারি সকালে কলেজ ক্যাম্পাসে বহিরাগত কয়েকজনকে নিয়ে রসায়ন বিভাগের প্রভাষক আরিফকে লাঞ্চিত করেন। এ ছাড়াও কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার পালকেও শারীরিকভাবে আক্রমণের নির্দেশ দিয়েছিলেন ওই অডিও বার্তায়। কিন্তু এ সময় ওই শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে পাঠদানরত থাকায় আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পান। ঘটনার পর কলেজের বিক্ষুব্ধ শিক্ষকরা বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন।

শিক্ষকদের অভিযোগ, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তাহের গত ১৬ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে জুতা পায়ে উঠার ছবি পত্র-পত্রিকাসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ পরিস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হাতা-হাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্থানীয় ৩ জন নামীয় ও অজ্ঞাত ১২-১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় কলেজের শিক্ষকদের সাক্ষী দেওয়ার জন্য অধ্যক্ষ চাপ দিলে এতে তারা রাজি না হওয়ায় তখন থেকে তিনি শিক্ষকদের উপর নানাভাবে হয়রানি ও লাঞ্চিত করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন বলে জানান তারা।

ওই কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আসাদুল হাবিব আরিফ বলেন, ঘটনার দিন আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই অভিভাবক আমার উপর আক্রমণ চালায়। পরে আমার সহকর্মীরা আমাকে উদ্ধার করে। বর্তমানে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।

সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার পাল বলেন, অধ্যক্ষের নির্দেশে আমার সহকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আমাকেও লাঞ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে আমরা বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছি। গতকাল সোমবার কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আমাদের শুনানি হয়েছে। আমরা আশা করি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

উলিপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু তাহের মোবাইল ফোনে জানান, আমি সচিবের মিটিংয়ে ঢাকায় সচিবালয়ে আছি পরশুদিন থেকে। পরে আমি কুড়িগ্রাম গেলে তখন কথা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা