kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

গৌরীপুরে ইয়াবাসহ ধরা ডিজিটাল নিরাপত্তা মামলার তিন আসামি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গৌরীপুরে ইয়াবাসহ ধরা ডিজিটাল নিরাপত্তা মামলার তিন আসামি

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (ফেসবুক) আপত্তিকর স্ট্যাটাস ও ছবি এডিট করে আপলোড করেন এক সহকারী শিক্ষক। এ নিয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার পর সোমবার রাতে তাকে মাদকাসক্ত অবস্থায় ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ সময় গ্রেপ্তার করা হয় তার বান্ধবীসহ অন্য এক সহযোগীকে। ঘটনাটি ঘটে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে। আজ মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন শিক্ষক কয়েস আল কায়কোবাদ লাজুক (৪০) ও তার এক সহযোগী শামছুজ্জামান বাপ্পি (২৫) ও বান্ধবী তৌহিদা আক্তার রুমা (৩২)। তারা গৌরীপুর শহরের পৃথক স্থানে বসবাস করেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, কয়েস আল কায়কোবাদ লাজুক উপজেলার ধূরুয়া গ্রামের মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে। তিনি এলাকার একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ছাড়াও মাদকের একাধিক মামলা রয়েছে গৌরীপুর থানায়।

এলাকার লোকজন জানান, তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকে বিভিন্ন অপকর্ম করে গেলেও মান সম্মানের ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেননি। প্রতিবাদ করলেই তার নিজস্ব বলয়ের লোকজনকে দিয়ে নিজস্ব ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন ফেইক আইডি দিয়ে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তাসহ সুশীল সমাজের লোকজনের বিরুদ্ধে নানা অশ্লীল আপত্তিকর মন্তব্য এবং এডিট করা অশ্লীল ছবি পোস্ট করে মানসম্মান ক্ষুণ্ণসহ তাদেরকে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এ অবস্থায় সম্প্রতি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদেন মনিকা পারভীন। তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শন করে ওই শিক্ষককের অনুপস্থিত থাকাসহ বিভিন্ন অপকর্মের সত্যতা পান। পরে তার বিরুদ্ধে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইলে ওই শিক্ষক তার সহযোগী শামছুজ্জামান বাপ্পি ও বান্ধবী তৌহিদা আক্তার রুমাকে দিয়ে হুমকী ধমকী দেওয়া ছাড়াও শিক্ষক লাজুকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নিতে শাসিয়ে দেয়।

এক পর্যায়ে তারা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মনিকা পারভীনকে নিয়ে ফেসবুকে অশ্লীল ভাষায় বিভিন্ন মন্তব্য ও ফটোশপে এডিট করা আপত্তিকর ছবি পোস্ট ছাড়াও শিক্ষা কর্মকর্তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে বিভিন্ন অশ্লীল মন্তব্য করেন। ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার পর গত  সোমবার রাতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত মামলা মামলা দায়ের করেন। পরে অভিযান চালিয়ে সোমবার গভীর রাতে তাদের শহরের বালুয়াপড়া মোড়ের একটি বাসা থেকে ২১ পিস ইয়াবাসহ মাদকাষক্ত অবস্থায় গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত এক সহযোগী শামছুজ্জামান বাপ্পি উপজেলার বোকাইনগর ইউনিয়নের অষ্টগড় গ্রামের আবুল বাসারের ছেলে এবং বান্ধী তৌহিদা আক্তার রুমা সতিষার আব্দুল হাইয়ের মেয়ে।

গৌরীপুর থানার ওসি মো. বোরহান উদ্দিন জানান, শিক্ষক লাজুকের নেতৃত্বে ওই চক্রটির অত্যাচারে নিরীহ লোকজন কোনোভাবেই মুখ খোলতে পারেননি। নিরবে সহ্য করে যাচ্ছিলেন। এদের কুকর্মে মানুষ নাজেহাল হয়ে পড়েছিল। তাদের গ্রেপ্তারের পর এলাকায় স্বস্তি এসেছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা