kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

তাঁতী লীগ সম্পাদকের নেতৃত্বে কামাল হোসেন খুন

টাঙ্গাইল ও মির্জাপুর প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ১৯:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তাঁতী লীগ সম্পাদকের নেতৃত্বে কামাল হোসেন খুন

ঢাকার কাফরুল থানা তাঁতী লীগের সম্পাদকের নেতৃত্বে যাত্রীবেশী ছিনতাইকারীরা ঈশ্বরদীর কামাল হোসেনকে কৌশলে প্রাইভেটকারে তুলে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশে মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের বাইমাইল এলাকায় ফেলে রাখে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ বরিশালের উজিরপুর উপজেলার নারকেলি গ্রামের মোসলেম মিয়ার ছেলে কাউছার আহমেদ (৩৫), সাকরাইল গ্রামের ইসমাইল হাউলাদের ছেলে কাফরুল থানা তাঁতী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল ইসলাম সুমন (৩০) ও ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জের ইটখোলা গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মামুন মিয়া (৩২) কে গ্রেপ্তার করে। 

এদের মধ্যে দুজন রবিবার ও একজন সোমবার টাঙ্গাইল জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যার বর্ণনা দিয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গত ৭ নভেম্বর দুপুরে মির্জাপুর উপজেলার বাইমাইল এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার রূপপুর গ্রামের কামাল হোসেনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশের এসআই হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল শনিবার রাতে ঢাকার সাভার থেকে কাউছার আহমেদ (৩৫) এবং কাফরুল থেকে মাঈনুল ইসলাম (৩০) কে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার রাতে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে এ ঘটনার সাথে জড়িত অপর আসামি মামুন মিয়াকে (৩২) গ্রেপ্তার করে। তিনি সোমবার জবানবন্দি দেন।

তাদের দেওয়া জবানবন্দির উদ্ধৃতি দিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজন এবং তাদের অপর সহযোগী দেলোয়ার একটি প্রাইভেট কারের যাত্রী হিসেবে ঘটনার দিন গাজীপুরের চন্দ্রা মোড়ে অপেক্ষা করতে থাকে। এ সময় কামাল হোসেন যাত্রী হিসেবে ওই প্রাইভেট কারে ওঠেন। গাড়ি ছাড়ার পরেই তারা কামাল হোসেনের মোবাইল, টাকা-পয়সা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন। একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি হয়। তখন তারা কামাল হোসেনকে মারধর করে এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে মহাসড়কের পাশে ওই স্থানে ফেলে রাখে।

গ্রেপ্তারকৃতরা বিগত ১০ বছর ধরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে প্রাইভেট কার নিয়ে যাত্রীদের গন্তব্যস্থানে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে গাড়িতে উঠিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব লুটে নিয়ে মহাসড়কের ফাঁকা নির্জন স্থানে ফেলে দিত। ছিনতাই করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্যে। কোনো কোনো যাত্রী বাধা প্রদান করলে তাদের হত্যা করে লাশ ফেলে দেওয়া হতো।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা