kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

পঞ্চগড়ে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ১৭:৫৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পঞ্চগড়ে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

পঞ্চগড় সদর উপজেলার মোমিনপাড়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) হাসান আলী (২৫) নামে এক গরু ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে সীমান্তের বাংলাদেশি অংশে ফেলে রেখে গেছে বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তার বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের খালপাড়া গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের তবিবর রহমানের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার ভোরে মোমিনপাড়া সীমান্তের মেইন পিলার ৭৫২ এলাকায় হাসানের গুলিবিদ্ধ লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। পরে খবর দিলে বিজিবির উপস্থিতিতে পঞ্চগড় থানা পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে প্রেরণ করে।

বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনার খবর পেয়ে নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মামুনুল হক ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদর্শন কুমার রায়সহ বিজিবি ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এই সীমান্ত এলাকাটি নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের ঘাগড়া ক্যাম্পের অধীনে রয়েছে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে হাসান আলীসহ ৬/৭ জন বাংলাদেশি গরু আনতে মোমিনপাড়া সীমান্তে গেলে ভারতের বেরুবাড়ি বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যদের হাতে ধরা পড়েন হাসান। তবে অন্যরা পালিয়ে আসতে সক্ষম হয়। পরে তাকে গুলি করে হত্যার পর সীমান্ত পোল পাড় করে বাংলাদেশি অংশে ফেলে রেখে যায় বিএসএফ। তবে হাসানের সাথে আর কারা গরু আনতে গিয়েছিল তা জানাতে পারেনি পরিবার। নির্বিচারে তাকে হত্যা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় তারা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

হাসানের স্ত্রী সাদিয়া জাহান জানান, আমার স্বামী প্রায় নিয়মিতই সীমান্তে গরু আনতে যায়। আমি নিষেধ করি বলে আমাকে না জানিয়েই যায়। সোমবার রাতে সীমান্তে যাওয়ার বিষয়ে কিছু জানতাম না। ভোরের দিকে ওপার থেকে খবর আসে আমার স্বামীকে আটক করে বিএসএফ মারধর করছে। তার কিছুক্ষণ পরেই শুনি আমার স্বামীকে গুলি করে হত্যা করে ফেলে রেখে গেছে বিএসএফ। আমি আমার স্বামীকে হত্যার বিচার চাই। 

হাসানের বাবা তবিবর রহমান বলেন, আমার ছেলে যদি কোন অন্যায় করে থাকে তাহলে বিএসএফ ধরে নিয়ে তাদের দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করুক। কিন্তু নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করলো কেন?

হাসানের বড় ভাই শাহাজাদ আলী বলেন, ভোরে খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে। মাথায় গুলিতে মগজ বের হয়ে গেছে।

পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, নিহত ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে প্রেরণ করা হয়েছে। তাকে হত্যা করা হয়েছে এটা নিশ্চিত। তবে বিএসএফ হত্যা করেছে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তদন্তের পর আমরা আপনাদের বিস্তারিত জানাতে পারব।

এ বিষয়ে ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে কর্নেল মো. মামুনুল হক তদন্তের আগে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা