kalerkantho

শনিবার । ১৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ৪ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

কাশিয়ানীতে বালু ব্যবসায়ীদের কারণে মরে যাচ্ছে ওয়াবদা খাল

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

২১ জানুয়ারি, ২০২০ ১৭:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কাশিয়ানীতে বালু ব্যবসায়ীদের কারণে মরে যাচ্ছে ওয়াবদা খাল

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের চরভাটপাড়া মৌজার ওয়াবদা খাল। এই খালটি দিয়ে ওই এলাকার অন্তত চারটি গ্রামের বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। সম্প্রতি সময়ে বালু ব্যবসায়ীরা বালুর চাতালের ড্রেন হিসেবে ব্যবহার করায় খালটি ভরাট হয়ে মরা খালে পরিণত করেছে। এতে ওই এলাকার লোকজনের শত শত বিঘা ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এলাকাবাসী জানায়, এই খালটি উপজেলার জঙ্গল মুকুন্দপুর, বুধপাশা, পারকরফা সুইচ গেট হয়ে চর ভাটপাড়ার দক্ষিণ পাশ দিয়ে মধুমতি নদীতে গিয়ে মিশেছে। এই খাল দিয়েই এলাকার পানি ও ক্ষেতের পানি মধুমতি নদীতে নামে। কিন্তু বালু ব্যবসায়ীরা অন্য জায়গা থেকে বালু এনে এই খালের মধ্যে ফেলছে। পরে এখান থেকে বিভিন্ন লোকের কাছে বিক্রি করে। খালে বালু ফেলার কারণে চলতি ইরি বোরো মৌসুমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এলাকার চাষীরা।

চরভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আবুল বাশার শেখ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বর্ষা মৌসুমে এলাকার বেশ কয়েকটি গ্রামের পানি এ খাল দিয়ে মধুমতি নদীতে বের হয়। খালের কারণে তারা জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পান। আবার চাষের জমিতে পানি লাগলে এই খালের থেকে সেচ দিয়ে নেওয়া হয়। মাঠে ঠিক মতো ফসল ফলে। এই খাল বাঁচাতে না পারলে এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। মাঠের ফসল পানির নিচে তলিয়ে যাবে। খালটি বাঁচাতে আমরা জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করি।

জানা গেছে, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার ফয়সাল কবির কদরের চর ভাটপাড়া মৌজায় একটি বালির চাতাল করেন। সেখানে তিনি ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলন করছেন। সেই বালির চাতালের পানি নিষ্কাশনের জন্য একটা আউট লাইন করে সেটা ওয়াবদা খালের সঙ্গে সংযুক্ত করেন। এই আউট লাইন দিয়ে পানি এবং বালি পড়ে খালটি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। এই খাল ভরাট হয়ে গেলে বর্ষা মৌসুমে তাদের এলাকার কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর ও ফসল পানিতে ডুবে যাবে। কিন্তু বালি ব্যবসায়ীরা সেই বিষয়টি না ভেবে তাদের কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

এ বিষয়ে সাবেক ওই চেয়ারম্যান ও ঠিকাদার ফয়সাল কবির কদরের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, আমি মধুমতি নদীর বালু মহলটি ইজারা নিয়ে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ঠিকা দিয়েছি। তারা ওই বালু মহল থেকে বালু উত্তোলন করছে। তারা যদি বালু উত্তোলন করতে গিয়ে খাল ভরাট করে ফেলে, তাহলে বালু ব্যবসায়ীদেরকে বালু কাটতে নিষেধ করে দেব।

কাশিয়ানী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিন্টু বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি মৌখিকভাবে জেনেছি। ওই এলাকার তসিলদারকে পাঠানো হবে। ব্যবসায়ীরা যদি সরকারি খাল ভরাট করে তাহলে তা অপসারিত করতে হবে। তা না হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে মৌখিক অভিযোগ পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে খালের মধ্যে যাতে বালু না যায় তার জন্য বলেছি। যেটুকু বালু পড়ে খাল ভরাট হয়েছে তা অনতিবিলম্বে অপসারণ করার নির্দেশ দিয়েছি। বালু সরিয়ে না ফেললে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা