kalerkantho

বুধবার । ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ১ রজব জমাদিউস সানি ১৪৪১

কালিয়াকৈরে ৯ম জাতীয় কাব ক্যাম্পুরী উদ্বোধনে রাষ্ট্রপতি

স্কাউটিং লেখাপড়ার পাশাপাশি সুনাগরিক হয়ে ওঠার শিক্ষা দেয়

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ২১:৪৪ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



স্কাউটিং লেখাপড়ার পাশাপাশি সুনাগরিক হয়ে ওঠার শিক্ষা দেয়

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, স্কাউটিং একজন শিক্ষার্থীকে লেখাপড়ার পাশাপাশি সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হাতে কলমে শিক্ষা দেয়। স্কাউটিংকে দেশসেবা ও মানবিক কল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। স্কাউটিংয়ের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সামাজিক জীবনে প্রতিফলন করা গেলে জাতীয় উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। জীবনে বড় হতে হলে কঠোর পরিশ্রম আর অনুশীলনের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ৯ম জাতীয় কাব ক্যাম্পুরিতে অংশগ্রহণকারী স্কাউটগস নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি পরোপকারী ও স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে গড়ে তুলবে। তাহলেই সমাজের কাছ থেকে আরো স্নেহ ভালোবাসা পাবে এবং অন্যরা তোমাদের অনুসরণ করে স্কাউটিং-এ উৎসাহিত হবে। স্কাউট জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন প্রেসিডেন্টস স্কাউট অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছে। অ্যাওয়ার্ড অর্জনকারী সকলকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আগামী দিনের সুন্দর বাংলাদেশ বির্নিমানে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাবে স্কাউটদের সকলের প্রতি প্রত্যাশা।

আজ সোমবার বিকালে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের মৌচাকে বাংলাদেশ স্কাউটস আয়োজিত ছয় দিনব্যাপী ৯ম জাতীয় কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশের স্কাউট সদস্য সংখ্যা প্রায় ১৯ লক্ষ থেকে ২১ লক্ষে উন্নীত করার উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। ২০২১ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ৩২তম এপিআর স্কাউট জাম্বুরী। স্কাউট সদস্য সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ বিশ্ব স্কাউট সংস্থার ‘টপ ফাইভ কান্ট্রি অ্যাওয়ার্ড’ এবং ‘এপিআর সাসটেনেবল গ্রোথ অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছে। এজন্য তিনি সকল পর্যায়ের স্কাউট ও স্কাউট নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানান।

তিনি বলেন, আগামী দিনে তোমরাই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তোমরাই জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত, ধর্ম নিরপেক্ষ উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করবে। সব সময় মনে রাখতে হবে অনেক ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশ আমাদের। এ জন্য তোমাদের যোগ্য ও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠতে হবে। সমাজ সেবা, সমাজ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তোমরা সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, ভবনধস ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্ধার কাজে তথা জাতীয় দুর্যোগে স্কাউটদেরকে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। আমি আশা করি মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাল্যবিবাহ ও ধর্মন্ধতা রোধসহ সামাজিক জনসচেতনতা সৃষ্টিতে স্কাউটরা বরাবরের মতো নিজেদের সক্রিয় রাখবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি ছিল আমাদের স্বাধীনতার লক্ষ্য। জাতির পিতার সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশের অর্থনীতি ও অবকাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাসহ তার পরিবারের আপনজনদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ফলে দেশে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের অগ্রযাত্রা থমকে যায়। উত্থান ঘটে স্বৈরশাসন ও অগণতান্ত্রিক সরকারের। দেশে আজ মুক্তিযুদ্ধের পতাকাবাহী গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজকে পরিপূর্ণতা দানের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘ভিশন ২০২১’ ‘ভিশন ২০৪১’ এবং শতবর্ষ মেয়াদী ‘ব-দ্বীপ পরিকল্পণা ২১০০’ গ্রহণ করেছেন। জাতিসংঘ ‘টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট ২০৩০’ অর্জনসহ ২০৪১ সালের মধ্যে দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা এসব মহাপরিকল্পণার উদ্দেশ্য। তবে উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে জনগণকে ইতিবাচক, আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে উন্নয়ন যাত্রায় শামিল হতে হবে। স্কাউকিং কার্যক্রম পারে ভবিষ্যত প্রজন্মকে আধুনিক, প্রগতিশীল, সৃজনশীল হিসেবে গড়ে তুলতে এবং সমাজকে এগিয়ে নিতে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বঙ্গবন্ধুর নামের সাথে জড়িয়ে আছে বাংলা, বাঙালি ও বাংলাদেশ। তিনি স্বাধীনতার মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। এ বছর স্বাধীনতার সেই অগ্নিপুরুষের জন্মশত বার্ষিকী উদযাপিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে ক্ষণগণনা শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১৭ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের ঠিক আট দিন আগে বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকী উদযাপনের কার্যক্রম শুরু হবে। চলবে ২০২১ সালের ১৭ মার্চ পর্যন্ত। গোটা দেশব্যাপী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা গভীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে তাদের প্রিয় নেতার জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপনের জন্য। ঠিক এমনই সময়ে ক্যাম্পুরী অনুষ্ঠিত হচ্ছে। যা সকলের নিকট স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সোনার বাংলায় পরিণত করতে চেয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। আমাদের তরুণ প্রজন্ম যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি, বঙ্গবন্ধুকে দেখেনি, তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশ গড়ার কাজে আত্মনিয়োগ করবে।

তিনি ক্যাম্পুরীতে অংশগ্রহণকারী দেশ-বিদেশের কাব স্কাউট ও স্কাউটদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ক্যাম্পুরী পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধুত্বের সেতুবন্ধন রচনার পাশাপাশি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে বলে আমি আশা করি।

বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক এমপি, প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান, কাব ক্যাম্পুরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মেহের অফরোজ চুমকি, ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার, কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল সিকদার  প্রমুখ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি ও চিফ স্কাউট ২০১৮ সালে স্কাউটদের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘প্রেসিডেন্ট’স স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ এবং রোভার স্কাউটদের সর্বোচ্চ অ্যাওয়ার্ড ‘প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জনকারীদের মধ্যে অ্যাওয়ার্ড বিতরণ করেন। পরে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে ৯ম জাতীয় কাব ক্যাম্পুরীর শুভউদ্বোধন ঘোষণা করেন। 

বাংলাদেশ স্কাউটস এর ব্যবস্থাপনায় ‘কাবিং করবো, শান্তির বার্তা আনবো’ এই থিমকে সামনে রেখে ছয়দিন ব্যাপী ৯ম জাতীয় কাব ক্যাম্পুরী শুরু হয়েছে আগামী ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত এই কাব ক্যাম্পুরী চলবে। এ লক্ষে গত শনিবার রাত থেকে কাব ক্যাম্পুরীতে অংশগ্রহণের জন্য দেশের সকল জেলা থেকে (৬ থেকে ১০+ বয়সী) কাব স্কাউটরা দলে দলে ক্যাম্পুরী ময়দানে এসে উপস্থিত হচ্ছে। কোমলমতি কাব শিশুদের কলকাকলীতে ভরে উঠছে ক্যাম্পুরী এলাকা। এই ক্যাম্পুরীতে দেশের সকল জেলা এবং উপজেলা থেকে প্রায় ৯ হাজার কাব স্কাউট, কাব স্কাউট লিডার, স্কাউট কর্মকর্তা ও রোভার স্বেচ্ছাসেবক অংশগ্রহণ করছেন।

সকল কাব স্কাউটরা দেশের বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়, কিন্ডার গার্টেন স্কুল, এবতেদায়ি মাদরাসার ছাত্র ও ছাত্রী। জেলা কন্টিনজেন্ট লিডারের নেতৃত্বে জেলা ভিত্তিক কাব স্কাউট লিডারদের নিয়ে কাব স্কাউটরা ক্যাম্পুরী ময়দানে আসছে। এই ক্যাম্পুরী পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত স্কাউট কর্মকর্তা ও স্বেচ্ছাসেবক রোভার স্কাউটরাও ক্যাম্পুরী ময়দানে পৌঁছেছে। কাব ক্যাম্পুরী হচ্ছে কাব স্কাউটদের বৃহত্তম মিলনমেলা। প্রতি ৪ বছর অন্তর বাংলাদেশ স্কাউটস এই মিলনমেলার আয়োজন করে থাকে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা