kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

কুলাউড়ায় গাছ নিধনে জড়িত স্বয়ং বন কর্মকর্তা!

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ২০:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুলাউড়ায় গাছ নিধনে জড়িত স্বয়ং বন কর্মকর্তা!

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার বরমচালে সরকারি বনভূমি থেকে অবৈধভাবে গাছ কাটার ধুম পড়েছে। অবাধে গাছ কেটে চলছে তা ক্রয়-বিক্রয়। স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তির সহযোগিতায় বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট বিট কর্মকর্তাই স্বয়ং এই অপকর্মের সাথে জড়িত থাকায় এলাকা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। 

গাছপালা নিধনের ফলে একদিকে যেমন বনভূমি উজাড় হয়ে যাচ্ছে অন্যদিকে তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আর সরকার হারাচ্ছে প্রতি বছর কোটি টাকার রাজস্ব।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরমচাল বনবিটের দায়িত্বরত কর্মকর্তা আহমদ আলীর সহযোগিতায় বনভূমির কয়েকটি টিলা দখল করে কয়েক সপ্তাহ থেকে অবৈধভাবে গাছগুলো বিক্রয় করছেন ব্রাহ্মণবাজার ইউনিয়নের চকেরগ্রামের বাসিন্দা লিয়াকত আলী। আর তা ক্রয় করছেন ব্রাহ্মণবাজার ও বরমচাল ইউনিয়নের বিভিন্নজনের কাছে। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন বন কর্মকর্তা ও রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অবহিত করলেও কোনো বিষয়ই কর্ণপাত করেননি বরমচাল বিটের কর্মকর্তা আহমদ আলী। 

সরেজমিন দেখা যায়, বরমচাল বনবিটের পশ্চিম সিঙ্গুর এলাকায় প্রায় ১৫-২০ একর জায়গা জুড়ে কয়েকটি টিলায় অবাধে কাটা হচ্ছে ৮-১০ বছর বয়সী আকাশী, বেলজিয়ামসহ বহু প্রজাতির দামি গাছ। কয়েকটি টিলার মধ্যে একটি টিলার সবকটি গাছ কেটে তা গাড়ি দিয়ে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হলেও টিলায় রয়েছে গাছের গোড়ার অংশ ও ডালপালা। আরেকটি টিলায় গাছ কাটা হচ্ছে। তখন গণমাধ্যমকর্মীরা ওই টিলায় যাওয়ার প্রাক্ষালে শ্রমিকরা টিলা থেকে কৌশলে অন্যত্র ছটকে পড়ে।

এ সময় দেখা যায় ওই টিলায় প্রায় শতাধিক গাছ কেটে তা স্তুপ করে রাখা হয়েছে। আরো শতাধিক গাছ কাটা অবস্থায় টিলায় পড়ে আছে। টিলায় দেখা মেলে সফর আলী নামে এক প্রহরীর সাথে। তিনি জানালেন, সপ্তাহ খানেক সময় থেকে তিনি বনের গাছগুলো পাহারা দিচ্ছেন।

কেন পাহারা দিচ্ছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যারা গাছ ক্রয় করে নিচ্ছেন তারা তাকে দৈনিক ৬০০ টাকা মজুরি দিয়ে রেখেছেন। এ সময় গাড়ি দিয়ে গাছ অন্যত্র নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তবে এক ট্রাক গাছ বন কর্মকর্তার অফিসে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বরমচাল বনবিট অফিসে গিয়ে পাওয়া যায়নি ট্রাক বোঝাই সেই গাছগুলো এবং বনবিট কর্মকর্তাকে।

টিলায় অবাধে গাছ কাটার বিষয়ে লিয়াকত আলী বলেন, সরকারি খাস জমি আমাদের দখলে আছে তবে এখানে কোনো গাছ কাটা হচ্ছে না। গাছ কাটার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। 

এ ব্যাপারে বরমচাল বন বিট কর্মকর্তা আহমদ আলী তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, একটি মহল তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। বনভূমি থেকে কোনো গাছ কাটা হচ্ছে না। সরকারি খাস জমি থেকে বেআইনিভাবে গাছ কাটা হচ্ছে শুনে সরেজমিন টিলায় গিয়ে গাছবোঝাই দুটি গাড়ি জব্দ করি। 

বন বিভাগের কুলাউড়ার রেঞ্জের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এনামুল হক জানান, আমি সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

সিলেট বনবিভাগ কার্যালয়ের উপ বন সংরক্ষক এস এম সাজ্জাদ হোসেন জানান, খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি জানার পর তাৎক্ষণিক বনবিভাগের লোকদের সাথে কথা হয়েছে। মঙ্গলবার বরমচাল বনবিট এলাকা পরিদর্শন করে তদন্তপূর্বক জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা