kalerkantho

বুধবার । ৬ ফাল্গুন ১৪২৬ । ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৪ জমাদিউস সানি ১৪৪১

শীতের রাতে কমলগঞ্জে চুঙ্গাপিঠা উৎসব

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২০ জানুয়ারি, ২০২০ ২০:৩৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শীতের রাতে কমলগঞ্জে চুঙ্গাপিঠা উৎসব

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত নয়টা। শীতের রাতে বাড়ির উঠানে বসে আছেন অতিথিরা। গ্রামের শতাধিক লোক ঘিরে আছেন তাদের। উঠানের এক পাশে গিট্টু মেপে ছোট করে কাটা বাঁশের চুঙ্গার স্তুপ। সেখানে জ্বলছে আগুন। বাড়িটিতে চলছে গান,পুথিপাঠ,কবিতা আবৃত্তিসহ বিভিন্ন পরিবেশনা। এভাবেই রাত একটা পর্যন্ত চলে চুঙ্গা পিঠা খাওয়ার ধুম। এ দৃশ্য মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার গ্রামের। সেখানে কবি জয়নাল আবেদীনের বাড়ির আঙ্গিনায় রবিবার আয়োজন করা হয়েছিল বিশেষায়িত চুঙ্গাপিঠা উৎসব।

আয়োজকরা জানান, চুঙ্গাপিঠা তৈরির আবহটাই  উৎসবের। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী এই পিঠা বানাতে ঢলু নামে যে বিশেষ প্রজাতির বাঁশ দরকার তা বিলুপ্ত হতে চলেছে। এঅবস্থায় চুঙ্গাপুড়ারও আকাল চলছে এখন। নির্বিচারে বৃক্ষ নিধন আর পাহাড় উজাড়ের কারণে ঢলু বাঁশ এখন পাওয়াই মুশকিল। শীতকালে তবু কালেভদ্রে দেখা মেলে ঢলু বাঁশের। বিশেষ ধরনের রাসায়নিক থাকে বলে এই বাঁশ আগুনে পোড়ে না মোটেও। ক্রমাগত তৈলাক্ত তরল নি:সরণ ঘটিয়ে টিকে থাকে সরু বাঁশের সবুজ শরীর। এমনকি কয়েক ঘণ্টা আগুনে পোড়ার পরও সবুজই থাকে ঢলু বাঁশ। কিন্তু আগুনের ভাপে চোঙ্গার ভেতরে ঠিকই তৈরি হয়ে যায় চুঙ্গাপুড়া।
কমলগঞ্জ চুঙ্গাপিঠা উৎসব এসোসিয়েশনের আহবায়ক কবি জয়নাল আবেদীনের সভাপতিত্বে রবিবারের উৎসবে সঞ্চালক ছিলেন সদস্য সচিব মো. আব্দুল মুকিত হাসানী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই পুথিপাঠ করেন মো. আব্দুস শহীদ। অভিমত ব্যক্ত করেন প্রভাষক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ, সমাজসেবক অলি আহমদ খান, নাট্যকার ডা. মানিক চন্দ্র দেবনাথ, কবি আব্দুল হাই ইদ্রিছি, সাংবাদিক প্রনীত রঞ্জন দেবনাথ, নুরুল মোহাইমীন মিল্টন, জয়নাল আবেদীন, কৃষক সংগঠক তোয়াবুর রহমান তবারক, সংস্কৃতিকর্মী মহসীন আহমদ কয়েছ, মুহিবুল ইসলাম, ওমর মাহমুদ আনছারী, কমরেড আফরোজ আলী, মিজানুর রহমান মিস্টার, আজিজুল হক পিপলু, হরমুজ আলী প্রমুখ। উৎসবে অতিথিদের জন্য ছিল চুঙ্গাপিঠা ও গুড়ের লালী। পরে উপস্থিত সকলের মাঝে পায়েস পরিবেশন করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা